রণবীরের ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে ধরা পড়ল মারাত্মক ভুল, ট্রোলড পরিচালক
শুধুমাত্র লোকেশন নয়, আরও একটি সূক্ষ্ম অথচ বড় ভুল খুঁজে বের করেছেন দর্শকরা। গানের ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি দোকানে গণেশ, নটরাজ এবং বুদ্ধের মূর্তি সাজানো ছিল। পাকিস্তানের একটি মলে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি কেন বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এক নেটিজেন বলেছেন, "ধুরন্ধর-এর ভক্তরা কি আমায় বুঝিয়ে বলবেন যে পাকিস্তানে কবে থেকে গণেশ বা নটরাজের মূর্তি বিক্রি শুরু হল?"

পর্দায় টানটান উত্তেজনা, দুর্ধর্ষ অ্যাকশন আর রণবীর সিংয়ের সেই চেনা ম্যাজিক- ‘ধুরন্ধর’ ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল গত বছরের ডিসেম্বরেই। মার্চে দ্বিতীয় ঝড় আসার অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা। কিন্তু উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখনই নেটিজেনদের চোখে ধরা পড়ল ছবির এক বিশাল ‘গোলমাল’। যে দৃশ্য দেখে দর্শক ভাবছিলেন তাঁরা পাকিস্তানের করাচিতে আছেন, আদতে সেই শ্যুটিং হয়েছে খোদ মুম্বইয়ের এক নামী শপিং মলে! ছবির সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির ঠিক আগেই এই পুরনো ‘ব্লুপার’ নিয়ে এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।
ছবির একটি জনপ্রিয় গান ‘গেহরা হুয়া’-তে রণবীর সিং এবং সারা অর্জুনকে একটি মলের ভেতরে ঘুরতে দেখা যায়। ছবির গল্প অনুযায়ী সেই জায়গাটি ছিল পাকিস্তান। কিন্তু মুম্বইয়ের বাসিন্দাদের চোখে ধুলো দেওয়া কি এতই সহজ? তীক্ষ্ণ নজরধারী দর্শকরা লক্ষ্য করেছেন, মলটি আসলে মুম্বইয়ের মালাড ওয়েস্টের বিখ্যাত ‘ইনঅরবিট মল’। নেটিজেনদের একজন রসিকতা করে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “রণবীর আর সারা করাচিতে শপিং করছেন ভাবলাম, অথচ ওটা তো আমাদের মালাডের ইনঅরবিট! গল্পের ভেতরে ডুবে ছিলাম, হঠাৎ দেখি পাশের বাড়ির চেনা জায়গা!” মুহূর্তের মধ্যে করাচি থেকে মালাডে পৌঁছে যাওয়ার এই ম্যাজিক এখন নেটদুনিয়ার হাসির খোরাক।
শুধুমাত্র লোকেশন নয়, আরও একটি সূক্ষ্ম অথচ বড় ভুল খুঁজে বের করেছেন দর্শকরা। গানের ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি দোকানে গণেশ, নটরাজ এবং বুদ্ধের মূর্তি সাজানো ছিল। পাকিস্তানের একটি মলে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি কেন বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এক নেটিজেন বলেছেন, “ধুরন্ধর-এর ভক্তরা কি আমায় বুঝিয়ে বলবেন যে পাকিস্তানে কবে থেকে গণেশ বা নটরাজের মূর্তি বিক্রি শুরু হল?” যদিও একদল সিনেমা প্রেমীর মতে, পরিচালক অনেক সময় নিখুঁত অভিনয়ের দিকে এত বেশি নজর দেন যে নেপথ্যের ছোটখাটো বিষয়গুলো এড়িয়ে যান।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ছবির বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি এস জোহরা নিজের সবটুকু দিয়ে কাজ করেছেন। পাকিস্তানের লিয়ারি এলাকাটি ফুটিয়ে তুলতে থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে প্রায় ছয় একর জায়গার ওপর বিশাল সেট তৈরি করা হয়েছিল। শ্যুটিং হয়েছে লাদাখ, লুধিয়ানা, অমৃতসর এবং চণ্ডীগড় জুড়েও। কিন্তু এত নিখুঁত আয়োজনের মাঝেও মুম্বইয়ের মলের এই দৃশ্যটি যেন গলার ‘কাঁটা’ হয়ে রয়ে গেল। ১৯ মার্চ বড় পর্দায় আসছে ছবির দ্বিতীয় ভাগ। সেখানেও কি এমন কোনও ‘চমক’ অপেক্ষা করছে? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন হলে যাওয়ার অপেক্ষায় দর্শকরা।
