মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আর করবেন না সুদীপ, বিপ্লবের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হতেই ঘোষণা বিজেপি বিধায়কের

সুদীপের মতিগতি যে আর দলের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না, সেটা ইতিমধ্যেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। 

মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আর করবেন না সুদীপ, বিপ্লবের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হতেই ঘোষণা বিজেপি বিধায়কের
সুদীপ রায় বর্মণ।

আগরতলা: ত্রিপুরা সরকারের ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি কাটাতে ক্ষমতা বণ্টনের উপরই জোর দিচ্ছেন বিপ্লব দেব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রসারিত হল ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রিসভা। এমন একটা সময় যখন বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ দলের বিরুদ্ধেই প্রকাশ্যে ক্ষোভপ্রকাশ করে চলেছেন, সেই সময় সরকার সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পদ্মশিবির। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভায় মঙ্গলবার যে তিনজন মন্ত্রী স্থান পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দু’জন সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ হলেও একজন বিজেপিতে নবাগত।

শপথ নেওয়া নতুন তিন মন্ত্রীর নাম হল- রামপ্রসাদ পাল, ভগবান চন্দ্র দাস এবং সুশান্ত চৌধুরী। এ দিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ, শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক-সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য ও বিধায়কেরা। মঙ্গলবার বিকেলে আগরতলার রাজভবনে রাজ্যপালের উপস্থিতিতে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়।

যদিও নতুন তিন মন্ত্রীর এখনও কোনও দফতর বণ্টন হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী পরবর্তী সময় দফতর বণ্টন করবেন বলে জানা গিয়েছে। আজকের শপথগ্রহণের ফলে বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভায় বর্তমান সর্বমোট মন্ত্রীদের সংখ্যা বেড়ে হল ১১ জন। যদিও মন্ত্রিসভায় এখনও একটি পদ ফাঁকা রয়ে গিয়েছে। ৬০ আসনের বিধানসভার এই রাজ্যে মোট ১২ মন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট দফতর রয়েছে।

সুদীপ রায় বর্মণের বিদ্রোহের আগুন না যাতে কোনও ভাবেই দলে না ছড়িয়ে পড়ে, সেই ব্যবস্থা নিতেই বুঝে-শুনে অঙ্ক কষে এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত বিপ্লব দেব নিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমবার রাজ্যে এসেই বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় নেতা বিনোদ সোনকার জানিয়েছিলেন, অপেক্ষা করুন, সময় হলেই দেখবেন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ। সেই মতো ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই দেখা গেল মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হতে।

নতুন মন্ত্রী হওয়া ৩ জন সদস্যের বয়স ৫০-এর মধ্যে বলে জানা গিয়েছে। ফলে এই পদক্ষেপ যেমন যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী, তেমনই পরোক্ষে সুদীপ রায় বর্মণকে একপ্রকার বার্তা দেওয়ার চেষ্টাও বটে। কারণ ২০১৮ সালে তিনি মন্ত্রীর পদে শপথ নিলেও দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সুদীপ রায় বমর্ণ এখন তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গিয়েছে। এমনকী, গতকাল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে এক বৈঠক চলাকালীন তিনি মাঝপথে বৈঠক ছেড়েও বেরিয়ে যান। ফলে তাঁর মতিগতি যে আর দলের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না, সেটা ইতিমধ্যেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

এই অবস্থায় নতুন ৩ মন্ত্রী মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পরই নতুন করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুদীপ। অসমের একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ দিন সুদীপ রায় বর্মণ জানান, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে আর কাজ করবেন না।শীঘ্রই তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন। যা আসলে তাঁর তৃণমূলে যাওয়ার রাস্তা খোলা রাখতে চাওয়ার চেষ্টা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আরও পড়ুন: বাঙালি প্রধানমন্ত্রী চাই, বিজেপির থেকে কেউ হলেও অসুবিধা নেই দেবের

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla