Nirmala Sitharaman: ‘কেবল বিজেপি শাসিত রাজ্যকেই নিশানা করবেন না’, লখিমপুর কাণ্ডকে ‘নিন্দনীয়’ অ্যাখ্যা অর্থমন্ত্রীর

Nirmala Sitharaman on Lakhimpur Violence: নির্মলা সীতারামন বলেন, "এই ধরনের ঘটনা দেশের নানা প্রান্তে ঘটছে। আমি চাই আপনারা সকলেই, যারা ভারতবর্ষকে চেনেন, তারা যখনই এই ধরনের ঘটনা ঘটবে, সরব হন। কেবলমাত্র বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেই সেই ঘটনাটি তুলে ধরা হবে, তা সঠিক নয়।"

Nirmala Sitharaman: 'কেবল বিজেপি শাসিত রাজ্যকেই নিশানা করবেন না', লখিমপুর কাণ্ডকে 'নিন্দনীয়' অ্যাখ্যা অর্থমন্ত্রীর
বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে নির্মলা সীতারমন। ফাইল চিত্র।

নয়া দিল্লি: লখিমপুর খেরির হিংসা (Lakhimpur Violence) নিয়ে এবার সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। এ দিন অর্থমন্ত্রী বলেন, “লখিমপুর খেরিতে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দাজনক।” একইসঙ্গে বিরোধীদেরও এক হাত নিয়ে তিনি বলেন, “কেবলমাত্র অন্যদের পছন্দের উপর ভিত্তি করে নয়, এই ধরনের ঘটনা দেশের যে কোনও প্রান্তেই ঘটলে,তা সকলের সামনে তুলে ধরা উচিত।”  

বর্তমানে মার্কিন সফরে রয়েছেন দেশের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী। সেখানেই মঙ্গলবার হাভার্ড কেনেডি স্কুলের তরফে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যখন লখিমপুরের ঘটনা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন এই বিষয়ে কথা বলেননি বা অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাই বা কেন এই ঘটনা থেকে পিঠ বাঁচিয়ে চলছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।  এরই জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই কথাটি একদমই সত্য নয়। আপনারা ঘটনাটিকে তুলে ধরেছেন, তা প্রশংসনীয়। এইধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দাজনক, আমরা সকলেই এই কথা বলেছি। কিন্তু দেশের বাকি প্রান্তেও এই ধরনেরই ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।”

নির্মলা সীতারামন বলেন, “এই ধরনের ঘটনা দেশের নানা প্রান্তে ঘটছে। আমি চাই আপনারা সকলেই, যারা ভারতবর্ষকে চেনেন, তারা যখনই এই ধরনের ঘটনা ঘটবে, সরব হন। কেবলমাত্র বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেই সেই ঘটনাটি তুলে ধরা হবে, তা সঠিক নয়। মন্ত্রীসভায় আমারই এক সহকর্মীর ছেলে হয়তো বিপদে রয়েছে এবং বিচারপক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সকলে অনুমান করে নিয়েছেন যে, অন্য কেউ নয়, ওনারাই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।”

নিজের বক্তব্যের আরও সাফাই সাফাই দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি নিজের দল বা প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি না। আমি দেশের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করছি। আমি দেশের হয়েই কথা বলব এবং গরিব মানুষদের সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেও সরব হব। এরজন্য যদি কেউ মশকরা করেন, তবে আমি বলব আসুন, তথ্য় প্রমাণের উপর ভিত্তি করে কথা বলি। এটাই আমার জবাব হবে।”

কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, সংসদের বিভিন্ন কমিটি এই বিষয়ে কয়েক দশক ধরে আলোচনা করার পরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের তরফে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে।

কেন্দ্রের তিন কৃষি আইন কৃষকবিরোধী, এই তত্ত্বকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যখন লোকসভায় কৃষি আইনের প্রস্তাবনা আনা হয়েছিল, সেই সময়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছিল। কৃষিমন্ত্রী যাবতীয় প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছিলেন। রাজ্য়সভাতেই আইনটি  আনার পর এত হই-হট্টগোল করা হয়েছিল। কৃষি আইন নিয়ে বিরোধিতাও মূলত একটি রাজ্য পঞ্জাব ও বাকি কয়েকটি রাজ্য অর্থাৎ হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশের কিছু অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।”

তিনি জানান, সরকারের তরফে বারংবার কৃষকদের জানানো হয়েছে তারা কথা বলতে প্রস্তুত। “আমরা একতাধিকবার জানতে চেয়েছি কৃষি আইনের কোন অংশটি নিয়ে সমস্য়া, তা আমাদের জানাতে। কিন্তু এখনও অবধি একটিও নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়নি। আন্দোলনকারীরা জানেনই না তারা কী নিয়ে আন্দোলন করছেন।”

আরও পড়ুন: PM Modi Gatishakti: ‘সদিচ্ছাই দেশের উন্নয়নের নয়া মন্ত্র’, সরকারি ক্ষেত্রে সমন্বয়ে ‘গতিশক্তি’র সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী 

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla