
কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল হতেই তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলর গ্রেফতার হচ্ছেন। এবার পুলিশের জালে কলকাতা পৌরনিগমের ‘দাপুটে’ তৃণমূল কাউন্সিলর। রীতিমতো তৃণমূলের কার্যালয় ঘিরে ফেলে কলকাতা পৌরনিগমের ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে গ্রেফতার করল ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ। শনিবার তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল এই কাউন্সিলরকে।
সুদীপ পোল্লে কলকাতা পৌরনিগমের ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যানও। ২০২৪ সালে শীল পাড়া এলাকায় একটি দোকান থেকে তোলাবাজি করেন বলে অভিযোগ। ৫ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়েছিল। এমনকি পৌরনিগমের ক্ষমতা দেখিয়ে দোকান ভাঙা হয় বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর শনিবার সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। তারপর কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয় ঘিরে ফেলে। কার্যালয়ের ভিতরেই ছিলেন সুদীপ। তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
সুদীপের গ্রেফতারির পর স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের সময় সুদীপের নেতৃত্বেই তৃণমূল বারবার বিজেপিকে বাধা দিয়েছে। শখের বাজারে বিজেপির মঞ্চ ভেঙে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এলাকার বয়স্ক লোকেদের বাড়ি হুমকি দিয়ে দখল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পুকুর ভরাট থেকে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বছর দুয়েক আগে বড়িশায় একটি চার্চের নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের মেরামতিতে বাধাদানের অভিযোগ উঠেছিল সুদীপের বিরুদ্ধে। ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মেয়র ও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন চার্চের বিশপ।
সুদীপ পোল্লের উত্থান-
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সুদীপ পোল্লে এক সময় বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ দিতেন। পরিবারের পানের দোকান ছিল। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে জায়গা পান। ২০১০ সালে কলকাতা পৌরনিগম নির্বাচনে টিকিট পান সুদীপ। তৃণমূল নেতারা বলেন, শোভনই সুদীপের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন। ধীরে ধীরে প্রভাব বাড়ে তাঁর। বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম তাঁকে ১৬ নম্বর বরো চেয়ারম্যান করেন।