Calcutta High Court : বাঁকুড়ায় মমতার জনসভা বন্ধের আবেদন, স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট

Calcutta High Court : মামলাকারীর বক্তব্য, জনসভার জন্য নদীর বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ওই সভা বন্ধের আবেদন জানানো হয়। তবে সভা বন্ধের নির্দেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট।

Calcutta High Court : বাঁকুড়ায় মমতার জনসভা বন্ধের আবেদন, স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট
বাঁকুড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা বুধবার
TV9 Bangla Digital

| Edited By: Sanjoy Paikar

May 30, 2022 | 6:29 PM

কলকাতা : তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বুধবার কর্মিসভা করবেন বাঁকুড়ায়। গন্ধেশ্বরী নদীর চরে ওই কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছে। তার জন্য নদীর বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার ওই নদীর চরে মমতার কর্মিসভা বন্ধের দাবিতে মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্য়ায়ের ডিভিশন বেঞ্চ অবশ্য জনসভার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল না। মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জুন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য জেলা সফরে গিয়েছেন। আজ পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন। আগামিকাল পুরুলিয়ায় তৃণমূলের কর্মিসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। তারপর রওনা দেবেন বাঁকুড়ায়। আগামিকালই বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। বুধবার বাঁকুড়ায় তৃণমূলের কর্মিসভা। সতীঘাট এলাকায় তৃণমূল সুপ্রিমোর ওই কর্মিসভার জন্য মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। আর ওই সভামঞ্চ ঘিরেই বেধেছে বিতর্ক।

একাধিক পরিবেশপ্রেমী সংগঠন, গন্ধেশ্বরী নদী বাঁচাও কমিটি, বিজ্ঞান মঞ্চ অভিযোগ তুলেছে, পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গন্ধেশ্বরী নদীর চরে সভাস্থল ঠিক করেছে তৃণমূল। বাঁকুড়া শহরের দুই প্রান্ত দিয়ে বয়ে গিয়েছে গন্ধেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর। এই দুটি নদীর গর্ভে এর আগে একাধিক সভা, সমিতি ও সমাবেশ হয়েছে। দুই নদীর চরেই একাধিকবার সভা সমিতি ও জন সমাবেশ করেছে বাম, তৃণমূল-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। একাধিক ধর্মীয় সংগঠনও একাধিক বার নদীর চরে সভা করায় তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। গতবছর একটি ধর্মীয় সংগঠন দ্বারকেশ্বর নদের চরে সমাবেশ করায় বিতর্ক বেধেছিল। জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয় বাঁকুড়ার একাধিক পরিবেশপ্রেমী সংগঠন। আদালত নদীর চরে সভা সমিতি বেআইনি বলে ঘোষণা করে। রাজ্যের সেচ দফতরও জানায় আর নদীর চরে কোনও সভা হবে না। পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির অভিযোগ, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের নদীর চরেই সভার আয়োজন করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। সভার আয়োজনের জন্য বড় বড় যন্ত্র নদীর বুকে নামানো হয়েছে। যার ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আজ সেই অভিযোগ তুলেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন সুলগ্না চৌধুরী নামে এক আইনজীবী। ওই স্থানে সভা বন্ধের নির্দেশ দিতে হাইকোর্টের কাছে আবেদন করেন। মামলাকারীর আইনজীবী লোকনাথ চট্টোপাধ্যায় ও সুবীর সান্যাল হাইকোর্টে বলেন, যে স্থানে জনসভা হবে, তা নদীর পারে। কয়েক হাজার মানুষ থাকেন। জনসভার জন্য নদীর বাঁধ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এই জনসভা ওই স্থানে না করতে দেওয়ার নির্দেশ দিতে হাইকোর্টে আবেদন জানান তাঁরা।

এই খবরটিও পড়ুন

মামলাকারীর অভিযোগ উড়িয়ে রাজ্য সরকার হাইকোর্টে জানায়, যেখানে জনসভা হচ্ছে, সেখানটা শুকনো ও ব্যক্তিগত মালিকানার অধীনে। দুই বিচারপতি নিজেদের পর্যবেক্ষণে বলেন, স্থায়ী কোনও নির্মাণ হচ্ছে না। গন্ধেশ্বরী নদীও এই মুহূর্তে বহমান নয়। জমিটিও বেসরকারি মালিকানার অধীনে। তাই জনসভা করার ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়, জানতে চায় ডিভিশন বেঞ্চ। শেষপর্যন্ত জনসভার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল না ডিভিশন বেঞ্চ। তবে সবপক্ষকে এই নিয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতিরা। মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জুন। ওইদিন হলফনামাগুলি খতিয়ে দেখবে হাইকোর্ট।

Latest News Updates

Follow us on

Related Stories

Most Read Stories

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla