হাইকোর্টে ধাক্কা রাজ্যের! ‘ট্রান্সফার পলিসি’ নেই, তাই শিক্ষিকার বদলির নির্দেশে স্থগিতাদেশ

Calcutta High Court: অনৈতিকভাবে বদলি করা হয়েছে। এই অভিযোগেই মামলা করেছিলেন এক শিক্ষিকা।

হাইকোর্টে ধাক্কা রাজ্যের! 'ট্রান্সফার পলিসি' নেই, তাই শিক্ষিকার বদলির নির্দেশে স্থগিতাদেশ
ফাইল ছবি

কলকাতা: অনৈতিকভাবে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের (Teachers) বদলি করা হয়েছে। নির্দেশ প্রত্যাহার করার দাবিতে কয়েকদিন আগেই বিকাশ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বিষপান করেন শিক্ষিকারা। আর সেই মামলায় আবারও হাইকোর্টে (Calcutta High Court) ধাক্কা খেল রাজ্য (West Bengal Govt)। শিক্ষকদের বদলির নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে রাজ্যকে। রাজ্য সোমবার সময় চেয়েছিল আদালত রাজি হয়নি। ৩০ নভেম্ভর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে চলছিল এই মামলা।

কী সেই মামলা?

মুর্শিদাবাদের ভোকেশনাল শিক্ষিকা অনিমা নাথ এই মামলাটি করেছেন। তাঁকে হুগলির বলাগড় থেকে কয়েক’শ কিলোমিটার দূরে মালদায় বদলি করা হয়েছিল। সেই বদলির নির্দেশ বাতিল করতে চেয়েই হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন তিনি। মামলাটির শুনানি চলাকালীন মঙ্গলবারই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানতে চান, কীসের ভিত্তিতে এই বদলির নির্দেশ জারি করল রাজ্য? কোন ক্ষমতাবলে এই নির্দেশ? এমন প্রশ্নও তোলা হয়। বুধবারই এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রাজ্যকে। ৩০ নভেম্ভর পর্যন্ত বদলি করা যাবে না অনিমা নাথকে।

কেন বদলি? সদুত্তর নেই রাজ্যের

গতকালের পর আজ ছিল এই মামলার শুনানি। কেন একজন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকাকে হুগলি থেকে সোজা মালদায় ট্রান্সফার করা হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল হাইকোর্ট। আজ রাজ্যকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। দুপুর সাড়ে ১২ মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছিল রাজ্যকে। গতকালই হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে কোন নীতিতে বদলি? বদলির কোনও ন্যায়সঙ্গত যুক্তি পায়নি আদালত।

‘বদলির কোনই আইন নেই’, স্বীকার করেছে রাজ্য

অস্থায়ী শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোন আইন নেই বদলির, আজ আদালতে সেটা স্বীকার করেছে রাজ্য। যদিও অন্যত্র স্থানান্তরিত (রিলোকেট) করা যায় বলে রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে। যদিও আদালত মনে করছে যেহেতু অস্থায়ী শিক্ষকদের ট্রান্সফার পলিসি নেই, রাজ্য সরকারের বদলির সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে রাজ্যকে। রাজ্য সোমবার সময় চেয়েছিল আদালতের কাছে, কিন্তু আদালত তাতে রাজি হয়নি।

হাজার দশেক টাকা বেতন পান এই চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকারা। এই বেতনে যদি কয়েক’শ কিলোমিটার দূরে উত্তরবঙ্গে বদলি করে দেওয়া হয়, তবে সংসার চলবে কী ভাবে। এই প্রশ্ন তোলেন শিক্ষিকারা।ঠিক সেই কারণেই বদলির সিদ্ধান্ত আটকাতে বহু অভিযোগ জানিয়েছেন ওই শিক্ষিকারা। কিন্তু কোনও কিছুতেই লাভ না হওয়ায় বিকাশ ভবনের সামনে বিষপান করেন ৫ এসএসকে শিক্ষিকা। এরপর আদালতেরও দ্বারস্থ হন বদলি হওয়া শিক্ষিকারা। হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। একই ধরনের আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে।

আরও পড়ুন: WB By-Election 2021: কোথাও কোনও অশান্তি হলেই দ্রুত পদক্ষেপ, উপনির্বাচনের আগে কড়া বার্তা মুখ্যসচিবের

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla