করোনা আবহেই ঘুরে আসুন উত্তরকাশীর এই আট জায়গাগুলিতে…

হিন্দু দেবদেবীর মন্দির, আশ্রম, সবুজ পাহাড়ের কোলে গ্রামের স্বাদ নিতে চাইলে উত্তরকাশী যেতে পারেন। হিমালয়ের বুকে ট্রেক করতে গিয়ে রাস্তায় চোখ পড়ে অপূর্ব সুন্দর সব গ্রামগুলির দিকে। উত্তরাখণ্ড, উত্তরকাশীতেও রয়েছে এই ধরণের নানা গ্রাম, মন্দির ও অফবিট জায়গা। তারই সন্ধান দিচ্ছি আমরা...

  • TV9 Bangla
  • Published On - 18:05 PM, 8 Apr 2021
করোনা আবহেই ঘুরে আসুন উত্তরকাশীর এই আট জায়গাগুলিতে...
উত্তরকাশীর অফবিট কিছু জায়গা

অতিমারী পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে বের হবেন কিনা ভাবছেন! দেশে হানা দিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার কারণে কয়েকটি রাজ্যে নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে। কড়া লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্রের মতো কিছু রাজ্য। তবে মন থেকে কি বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছেডানাগুলো ছেঁটে ফেলা যায়? ভারতেই রয়েছে কিছু অফবিট জায়গার সন্ধান। যাঁরা হিমাচল প্রদেশে যাওয়ার প্ল্যান করছেন, কিন্তু করোনার ভয়ে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্বের কথা ভাবছেন, তাঁরা উত্তরকাশীর এই অফবিট জায়গাগুলিতে ঢুঁ মারতে পারেন।

‘সৌম্য কাশী’ ও ‘শিবনগরী’ নামে উত্তরকাশী বিশেষ পরিচিত। তাই এখানে ধর্মীয় স্থান বেশি থাকবে তা বলাই বাহুল্য। এর বাইরেও উত্তরকাশীর সৌন্দর্য দেখার বহু জায়গা রয়েছে। সেগুলি জেনে নিন এখানে…

কাশী বিশ্বনাথ মন্দির

বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ মন্দির নয়, এই মন্দির উত্তরকাশীর। হিন্দুদের বিশ্বাস, শিবের জটা থেকে যখন গঙ্গার উত্‍পত্তি হয়েছিল, তখন এই স্থানেই অধিষ্ঠান করেছিলেন মহাদেব। শিবকে উত্সর্গ করা এই মন্দিরটি ভাগীরথী নদীর তীরে স্থাপন করা হয়েছে। এই মন্দির অধিষ্ঠানের পিছনে রয়েছে ধর্মীয় তাত্‍পর্যও। স্থানীয় ভক্তরা তাঁদের প্রার্থনা করতে নিয়মিত মন্দিরে যান। দর্শনার্থীরাও ভাগীরথী এবং আশেপাশের পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে বার বার ছুটে যান।

বারসু গ্রাম

মনোরম গ্রাম ঘুরে দেখতে এই গ্রামে অবশ্যই যাবেন। শান্তির সন্ধানে থাকা ভ্রমণকারীদের জন্য উপযুক্ত জায়গা। পাহাড় এবং সবুজে সজ্জিত এই গ্রামটিতে পোঁছানো যায় খুব সহজেই। এখানে কয়েকটি সুন্দর হোমস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে অনলাইনে বুকিং করতে পারেন। এই গ্রামটি খুব জনপ্রিয় ডায়ারা বুগিয়াল এবং গিডারা বুগিয়াল ট্রেকের জন্য বেস ক্যাম্প হিসাবে কাজ করে।

কুটেটি দেবী

দুর্গার আরেক রূপ কুটেটি দেবীকে উত্‍সর্গ করেই এই মন্দিরটি হরি পর্বতের চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে। মনে করা হয় যে মন্দিরটি কোটার মহারাজার জামাতা এবং পুত্রবধূ এই মন্দির স্থাপন করেছিলেন। স্থানীয়রা মনে করেন এই মন্দিরের অধিষ্ঠিতা অত্যন্ত জাগ্রত। তাই গ্রামের অভিভাবক হিসেবে পূজিত হন দেবী কুটেটি।

মানেরি বাঁধ

ভাগীরথী নদীর উপর কংক্রিটের বাঁধ। উত্তরকাশীর এই বাঁধটি নদীর জলকে একটি বড় সুড়ঙ্গে পরিণত করেছে। ১৯৬০ সালে নির্মিত ম্যানারি ভালি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি অংশ এটি। সুন্দর, শান্ত ও মনোরম জায়গায় স্থানীয়রা প্রায়শই এখানে পিকনিক এবং বোটিংয়ের জন্য আসে।

সঙ্গম ছাত্তি

ছোট কিন্তু মনোরম জায়গাটি পুরো সবুজ উপত্যকার অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়ের কোলে, সবুজে ঘেরা একচিলতে গ্রামে সুস্বাদু আলু চাষ করা হয়। এছাড়া সুন্দর সাজানো জায়গাটির মধ্যে আরও একটি পাহাড়ি গ্রাম রয়েছে। যার নাম ভেবরা। যেখানে রাজমা চাষের জন্য বিখ্যাত। উত্তরাখণ্ডে ট্রেক করতে গেলে এই গ্রামে একরাত কাটিয়ে যেতে পারেন। রাতের অন্ধকারে এই গ্রামের স্বর্গীয় সৌন্দর্য আস্বাদন করার জন্য একরাত থাকতেই পারেন। সঙ্গে স্থানীয় খাবার, স্থানীয়দের সঙ্গে গল্পগুজবেই রাত কেটে যাবে। পরেরদিন ফের ট্রেকের জন্য বেরিয়ে যেতে পারেন আপনি।

নচিকেতা লেক

উত্তরকাশীর ট্যুরিস্ট স্পটের অন্যতম আকর্ষণ এই নচিকেতা লেক। লেকের ধারে দু মিনিট বসলেই আপনার মন হবে শান্ত। এই লেকের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিছু পৌরানিক কাহিনি। স্থানীয়দের মতে, এই লেক তৈরি করেছিলেন উদ্দালক। পরে তাঁর ছেলে নচিকেতার নাম অনুসারে এই লেকের নাম দেওয়া হয় নচিকেতা। লেকের চারিধারে পাইন-ওকের ঘন জঙ্গলের চোখজোড়া মনোরম সৌন্দর্যের টান অনুভব করেন পর্যটকরা। এই লেকের পাশেই রয়েছে জনপ্রিয় দেবতা মন্দির।

কাদের তাল

গঙ্গোত্রী থেকে ১৮ কিমি উচ্চতায় অবস্থিত এই তাল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ব১৫ হাজার উপরে অবস্থিত এই লেকের জল নীল ও স্বচ্ছ্ব। জলের মধ্যে প্রতিফলিত হয় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গগুলি। অপূর্ব স্বর্গীয় এই পরিবেশের টানে আপনি একবার যাবেনই -যাবেন। রোমাঞ্চকর ট্রেকিং করা ইচ্ছে থাকলে এখানে যেতে পারেন অনায়াসেই। যগিন, থাল্যাসাগর ও ভ্রিগুপন্থে ট্রেকিংয়ের জন্য এই সুন্দর লেকের ধারে বেস ক্যাম্প করা হয়ে থাকে।