স্পেসএক্সের ‘মুন ল্যান্ডার’ তৈরিতে বাধা, কনট্র্যাক্ট দিয়েও কাজ বন্ধের নির্দেশ দিল নাসা

হাই প্রোফাইল এই প্রোজেক্টের লক্ষ্য ছিল চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানো। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে সমস্যা।

  • TV9 Bangla
  • Published On - 15:06 PM, 3 May 2021
স্পেসএক্সের 'মুন ল্যান্ডার' তৈরিতে বাধা, কনট্র্যাক্ট দিয়েও কাজ বন্ধের নির্দেশ দিল নাসা
ছবি প্রতীকী

চাঁদে পাড়ি দেওয়ার জন্য একটি স্পেসক্র্যাফট তৈরি করছিল ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্স। মার্কিন স্পেস এজেন্সি নাসার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল তাদের। কিন্তু আচমকাই স্পেসএক্সকে সেই কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে নাসা।

কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

এই প্রসঙ্গে নাসা জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের তরফে জোরালো প্রতিবাদ শুরু হওয়ায় কাজ বন্ধ করা হয়েছে। আসলে এই স্পেসক্র্যাফট তৈরির সুযোগ আরও অনেক সংস্থাই পাওয়ার দৌড়ে ছিল। কিন্তু সকলকে টেক্কা দিয়ে সুযোগ পায় স্পেসএক্স। তাই নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্যান্য ‘রাইভাল’ সংস্থা। মার্কিন সরকারের অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসে এই নিয়ে বিস্তর ঝামেলাও হয়েছে। তারপরই স্পেসএক্সকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে নাসা।

নাসার এই সিদ্ধান্তের জেরে আপাতত সমস্ত কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে স্পেসএক্স। বিশেষত ‘মুন প্রোগ্রাম’ বা চন্দ্র অভিযান সংক্রান্ত কোনও কাজেই অংশ নিতে পারবে না স্পেসএক্স। যতদিন পর্যন্ত না ইউএস গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস বা জিএও নতুন নিয়ম তৈরি করছে, ততদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে কাজ। অনুমান, অগস্ট মাসের ৪ তারিখের আগে নতুন কোনও নিয়ম চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদিও স্পেসএক্সের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য রাখা হয়নি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকেই নাসার তরফে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সকে এই ‘লুনার কনট্রাক্ট’ দেওয়া হয়েছিল। কোটিপতি জেফ বেজোসের সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’ এবং ডিফেন্স কনট্রাক্টর ‘ডায়নেটিক্স’ এই কনট্রাক্ট পায়নি। হাই প্রোফাইল এই প্রোজেক্টের লক্ষ্য ছিল চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানো। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে সমস্যা।

আরও পড়ুন- মহাকাশে ২ ধরনের সবজি ফলিয়ে তাক লাগালেন নাসার বিজ্ঞানীরা!

জেফ বেজোসের সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’- এর তরফে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। জিএও- র সামনে তারা জানিয়েছে, নাসা কেবলমাত্র স্পেসএক্সকেই এই কনট্রাক্টের জন্য ‘বিড’ করতে দিয়েছিল। ব্লু অরিজিন- কে ‘বিড’ করতেও দেওয়া হয়নি। নাসার তরফে স্পেসএক্সকে ‘রিভাইস বিড’ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এই সুযোগ জেফ বেজোসের সংস্থা পায়নি। নাসা এবং ইলন মাস্কের সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’। তাদের আরও অভিযোগ, মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নিলে স্পেসএক্স- এর হাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে।

শুধুমাত্র জেফ বেজসের ‘ব্লু অরিজিন’ নয় ‘ডায়ানেটিক্স’- এর তরফে নাসাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।