কোনও একটা দিনের নিরিখে দেখলে এটা জাতীয় রেকর্ড। একইদিনে সবমিলিয়ে ৬টি ছোট- বড় যুদ্ধজাহাজ নৌ-সেনায় কমিশনড হচ্ছে, এমন ঘটনা আগে কখনও হয়নি। তেসরা এপ্রিল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের হাতে বিশাখাপত্তনমে ৬টি যুদ্ধজাহাজ কমিশনড হয়েছে। গতকাল নৌ-সেনার এক শীর্ষকর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বললেন, চলতি বছরে আরও এক ডজন নৌ-সেনায় কমিশনড হবে। ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার, মিনি সাবমেরিন, অ্যান্টি মেরিন লঞ্চ - নানা ধরণের জাহাজ হাতে পাবে নৌ-সেনা। এর মধ্যে আকর্ষণের কেন্দ্রে জোড়া যুদ্ধজাহাজ। আইএনএস তারাগিরি এবং আইএনএস অরিদমন। তারাগিরি লিয়েন্ডার ক্যাটেগরির ফ্রি-গেট। আর অরিদমন দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তৃতীয় পরমাণু চালিত সাবমেরিন। অরিঘাত, অরিহান্তের পর অরিদমন। আইএনএস তারাগিরি আর আইএনএস অরিদমন - দুটি জাহাজেরই অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। শুনলে আপনাদের ভাল লাগবে। গর্ব হবে। তারাগিরি ৫ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইল জুড়ে দাপিয়ে বেড়ায়। নিজের এলাকায় শত্রু জাহাজকে শনাক্ত করা এবং ধ্বংস করতে সিদ্ধহস্ত। এর মূল অস্ত্র ৩২টি বারাক এইট ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলোর পাল্লা ৫০০ মিটার থেকে ১০০ কিলোমিটার। টর্পেডো, অ্যান্টি সাবমেরিন রকেট লঞ্চার মিলিয়ে বিরাট ব্যাপার। একসঙ্গে ৭২টা রকেট ছুঁড়তে পারে বলে তারাগিরিকে দুনিয়ার সেরা ফ্রি-গেট হিসাবে ধরা হচ্ছে। আইএনএস অরিদমন ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে নির্ভুল টার্গেটে শক্রকে পেড়ে ফেলতে পারে। ভারতীয় সেনাসূত্রে খবর, ৭ হাজার টনের আইএনএস অরিদমনের মতো কোনও নিউক্লিয়ার সাবমেরিন পাকিস্তানের হাতে নেই। অন্তত এইক্ষেত্রে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে একমাত্র চিন। ভারতীয় সেনার শক্তিশালী হওয়ার পিছনে আমাদের রাজ্যের সংস্থার ভূমিকার কথাও বলতেই হবে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের হাত ধরে সেনায় কমিশনড হয়েছে তিন-তিনটে যুদ্ধজাহাজ। বঙ্গোসাগর অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিরক্ষা কৌশল ঢেলে সাজাচ্ছে নৌ-সেনা। এই তিন যুদ্ধজাহাজ সেই কৌশলেরই অঙ্গ বলে খবর।