ন্যায়ের সঙ্গে হবে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান: অমিত শাহ

"যেসব গোর্খাদের উপর মামলা রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার হবে, ১১ গোর্খা জনজাতিকে তফশিলি সম্প্রদায়ের তকমা দেওয়া হবে। গোর্খা ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হবে।'' ঘোষণা অমিত শাহের (Amit Shah)।

ন্যায়ের সঙ্গে হবে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান: অমিত শাহ
নিজস্ব চিত্র

দার্জিলিঙ: পৃথক গোর্খাল্যান্ডের কথা মুখে আনলেন না। কিন্তু একুশের বিধানসভা ভোটের মধ্যে (West Bengal Assembly Election 2021) গোর্খাদের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মঙ্গলবার গোর্খা স্টেডিয়ামের জনসভায় শাহের জোরাল দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই পাহাড়ের সব সমস্যার সমাধান হবে। ২ মে-র পর বদলে যাবে দার্জিলিঙ। যদিও কোন পথে সেই প্রতিশ্রুতি রূপায়ণ হবে তা স্পষ্ট করেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন অমিত শাহ বলেন, “যেসব গোর্খাদের উপর মামলা রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার হবে, ১১ গোর্খা জনজাতিকে তফশিলি সম্প্রদায়ের তকমা দেওয়া হবে। গোর্খা ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হবে। প্রসারভারতী, দূরদর্শনে নেপালি ভাষায় সম্প্রচার হবে। চা শ্রমিকদের মজুরি বাড়বে। পানীয় জলের সমস্যার সমাধান করা হবে।”

গোর্খা সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের অঙ্গীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একমাত্র বিজেপিই গোর্খাদের সঙ্গে ন্যায় করতে পারে।” তাঁর অভিযোগ, দার্জিলিঙয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। গত ৭০ বছরে কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল দার্জিলিঙয়ের উন্নয়নে ফুলস্টপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এবার বিজেপি জিতলে উন্নয়নের রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে ঘোষণা করলেন শাহ। তাঁর কথায়, বাংলায় বিজেপি সরকার তৈরির এক সপ্তাহের মধ্যে গোর্খাদের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে তা তুলে নেওয়া হবে।

এখন রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, আদতে কি গোর্খাদের বহুদিনের পৃথক রাজ্যের দাবিকে উস্কে দিলেন শাহ? ২০১৭ সালে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের পর থেকেই বারবার এই দাবি জোরাল হয়েছে। ২০১৯ -এর লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙ থেকে সংসদে যান রাজু বিস্তা। তাঁর নেতৃত্বে আরও প্রবল হয় গোর্খাল্যান্ডে দাবি। এর আগে ২০২০ সালে এ নিয়ে কেন্দ্রে একটি বৈঠক ডাকে। যদিও সেটি বাতিল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: পাহাড়ে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চাই, মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন গুরুংয়ের 

অন্যদিকে বিমল গুরুং তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন জানিয়েছে বটে। তবে গোর্খাল্যান্ডের দাবি ছাড়েনি। রোশন গিরি সাংবাদিক বৈঠক করে আগে জানিয়েছেন, একুশের বিধানসভা ভোটে তাঁরা তৃণমূলকে সমর্থন জানালেও, ২০২৪-এর ভোটে যে রাজনৈতিক দল তাঁদের গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন জানাবে সেই রাজনৈতিক দলকেই সমর্থন জানাবেন তাঁরা। মাস কয়েক আগে আবার পাহাড় সফরে গিয়ে মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি কখনওই তাঁর সরকার দেয়নি। এবং গোর্খাল্যান্ডকে সমর্থনও জানায়নি। এই প্রেক্ষিতে গোর্খাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিলেন অমিত শাহ।