Tiger census: ১ হাজারের বেশি ক্যামেরা সঙ্গে নতুন অ্যাপ! ৪ বছর পর সুন্দরবনে শুরু বাঘগণনার প্রশিক্ষণের কাজ

Sundarban: সুন্দরবনে বিগত বাঘ সুমারিতে বাঘের সংখ্যা উঠে এসেছিল ৯৬

Tiger census: ১ হাজারের বেশি ক্যামেরা সঙ্গে নতুন অ্যাপ! ৪ বছর পর সুন্দরবনে শুরু বাঘগণনার প্রশিক্ষণের কাজ
সুন্দরবনে শুরু বাঘ গণনার কাজ

সুন্দরবন: শুরু হল বাঘ শুমারি। বাঘের সংখ্যা কত রয়েছে তা জানার জন্যই এই গনণা করা হয়ে থাকে।এবার চার বছর পর দেশজুড়ে বাঘ শুমারির সঙ্গে বাঘের খাদ্যের মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (এনটিসিএ)। তাই মঙ্গলবার থেকেই পূর্বাঞ্চলীয় কেন্দ্র হিসাবে সুন্দরবনের সজনেখালিতে তিনদিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। এই গণনায় থাকবেন বনদফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে একেবারে নিচুস্তরের বনকর্মীরা।

মূলত বিশ্বের বৃহত্তম বাদাবন বলেই খ্যাত সুন্দরবন। তাই এই ম্যানগ্রোভ বাদাবনের দেশে বাঘের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। ভৌগলিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন এই সুন্দরবন এলাকার জলে জঙ্গলে নানাবিধ সমস্যার মধ্যেও বনকর্মীরা বাঘের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য বিশেষ প্রযুক্তির ক্যামেরা লাগিয়ে আসবেন। পরবর্তীতে সেই ক্যামেরাবন্দি বাঘের ছবি দেখে তারপর নির্ধারণ করা হবে ভারতীয় সুন্দরবনের প্রকৃত বাঘের সংখ্যা।

অতীতে বাঘের পায়ের ছাপ ও মল সংগ্রহ করেই বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হত। পরবর্তী সময়ে সেই পদ্ধতি বাতিল করে ক্যামেরা বসানো হতে থাকে। এক একটি জায়গায় দু’টি করে ক্যামেরা বসাতে হয় যাতে একটি বাঘ বাঘের দুই দিকের ছবি ক্যামেরাবন্দি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সেই বাঘের গায়ে ডোরাকাটা দাগ (যা প্রতিটি বাঘের ক্ষেত্রে আলাদা হয়) সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিজ্ঞানসম্মতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনে বিগত বাঘ সুমারিতে বাঘের সংখ্যা উঠে এসেছিল ৯৬। এবারের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বসিরহাট রেঞ্জ, সজনেখালি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি রেঞ্জ, ন্যাশনাল পার্ক ইস্ট রেঞ্জ ও ন্যাশনাল পার্ক ওয়েস্ট রেঞ্জের বনকর্মীরা। এদের সঙ্গে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত মাতলা রেঞ্জ,রায়দিঘি রেঞ্জ ও রামগঙ্গা রেঞ্জের বনকর্মীরা অংশ নিয়েছে।

ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কীভাবে জঙ্গলে ক্যামেরা বসানো হবে এবং তা হাতে-কলমে এদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বাঘের খাদ্য অর্থাৎ হরিণ,শুকর,বানর সহ অন্যান্য জীবজন্তুর ছবি ও উঠবে।সেই ছবি দেখেও বাঘের খাদ্যের সমস্যা আছে কিনা কিংবা জঙ্গল বাড়ছে না কমছে সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এবার এই ক্যামেরায় ওঠা ছবির মাধ্যমেই তা পর্যালোচনা করা হবে।

ডিসেম্বরের ৫ তারিখ থেকে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় প্রথম ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হবে যা ৩৫ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে। এর জন্য দশটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে প্রায় ১২ থেকে ১৪ জন করে থাকবে। জিপিএস প্রযুক্তি ছাড়াও আত্মরক্ষার্থে থাকবে বন্দুকও। ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এছাড়া এবার একটি নতুন অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকাতে মোট ১১৬২ টি ক্যামেরা বিশেষ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে। যার মধ্যে ৮০০ টি ক্যামেরাই আবার নিজস্ব সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের। বাকি ৪০০ টি ক্যামেরা দিয়ে সাহায্য করছে ডাবলু ডাবলুএফ। পরবর্তী পর্যায়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বিভাগীয় বনাধিকারিক এর আওতাধীন সুন্দরবন অঞ্চল রয়েছে সেখানেও একইভাবে ১৩৬ টি জায়গায় এই ক্যামেরা বসানো হবে। সেই ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।

আরও পড়ুন: Asansol Murder: জামুড়িয়ায় শুটআউট! চলল পরপর তিন রাউন্ড গুলি, খনি কর্মীকে মাংসের দোকানে খুন

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla