‘বিজেপিতে গণতন্ত্র হরণ হচ্ছে, দালাল নেতাদের কারণেই ভরাডুবি’, মোর্চা নেত্রীর নিশানায় রাজ্য নেতৃত্ব

BJP West Bengal: সময় যত এগোচ্ছে, পদ্মশিবিরের অন্দরে দলবদলু নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

'বিজেপিতে গণতন্ত্র হরণ হচ্ছে, দালাল নেতাদের কারণেই ভরাডুবি', মোর্চা নেত্রীর নিশানায় রাজ্য নেতৃত্ব
মোর্চা নেত্রী অমৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র


সত্যজিৎ মণ্ডল: ইতিউতি ফিসফাস শুরু হয়েছিল ২ মে ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই। সময় যত এগোচ্ছে, পদ্মশিবিরের অন্দরে দলবদলু নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এখনও বিজেপির অন্দরেই থাকা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্তদের কাঁধেই এ বার ব্যর্থতার দায় চাপালেন রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদিকা অমৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক লাইভে এসে ডোমজুড় ও রাজারহাট নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, এতকিছুর পরও দল কেন এই নেতাদের রেখে দিয়েছে?

বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতে বসে TV9 বাংলার ক্যামেরার সামনে অমৃতা বলেন, “বিধানসভা ভোটে তৃণমূল থেকে আগত রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত এবং সোনালী গুহর মতো দালাল নেতাদের কারণেই বিজেপির ভরাডুবি হয়।” রাজীবের বর্তমান দোদুল্যমান অবস্থান নিয়েও তোপ দেগেছেন অমৃতা। “যে বিজেপি তাঁকে নেতা বানালো, সেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কথা বলে যাচ্ছেন রাজীব। কুণাল ঘোষের সঙ্গেও ছবি দেখা যাচ্ছে। তারপরও নেতৃত্ব এঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সেই কারণেই লাইভ করতে বাধ্য হলাম,” বলেন তিনি।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তো বিজেপি নেতৃত্ব অনুমোদন করে না। একে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবেই গণ্য করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের কথা না জানিয়ে নেতৃত্বকে জানাচ্ছেন না কেন তিনি? এই প্রশ্ন তোলা করা হলে অমৃতা জানান, “নেতৃত্বকে এই বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত, বারংবার জানানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু দলের মধ্যে ইদানীং গণতন্ত্র হরণ করা হচ্ছে, কর্মীদের কথা শোনা হচ্ছে না।” এত কিছুর পরেও কেন রাজীবকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা রাজ্য নেতৃত্ব চালাচ্ছে, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘জোকার’ সৌমিত্রর ‘পাগলামি’ না থামলে কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলীপের

মোর্চা নেত্রীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপির সাংগঠনিক পূর্ব জেলার সভাপতি সুমিত দাস জানিয়েছেন, “অমৃতাদি আমার সিনিয়র নেতা। উনি নিজের উপলব্ধির কথা বলেছেন। রাজ্য নেতৃত্ব বিষয়টি অবশ্যই দেখবেন। তবে আমার মতে ফেসবুকে এসব বলা উচিত না।” যা নিয়ে অমৃতার পালটা যুক্তি, “যাঁরা শৃঙ্খলা ভাঙছেন তাঁদের অপসারণের দাবিতেই দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে আমরা আওয়াজ তুলতে বাধ্য হচ্ছি।”

আরও পড়ুন: দেবাঞ্জনের ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডে বড় মোড়, তদন্তে এ বার কেন্দ্রীয় সংস্থা

 

Read Full Article

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla