প্রথমে বৈদ্যুতিক শক, পরে বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রীকে ‘খুন’ করলেন হান্নান! উত্তেজনা ভাঙড়ে

Murder: আজ থেকে দশ বছর আগে নাংলার বাসিন্দা হান্নানের সঙ্গে বিয়ে হয় লিলুফা বিবির। বিয়ের পর থেকেই মনোমালিন্য হতে শুরু করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।

প্রথমে বৈদ্যুতিক শক, পরে বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রীকে 'খুন' করলেন হান্নান! উত্তেজনা ভাঙড়ে
মৃত লিলুফা বিবি, নিজস্ব চিত্র

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্বামীর পরকীয়া মেনে নিতে পারেননি স্ত্রী। প্রতিবাদ করায় নির্মম মৃত্যুর শিকার হলেন বছর ত্রিশের লিলুফা বিবি। অভিযোগ, স্বামী হান্নান মোল্লা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। লিলুফা বিবি প্রতিবাদ করায় তাঁকে প্রথমে বৈদ্য়ুতিক শক পরে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন (Murder) করা হয় বলে অভিযোগ। শনিবার সকালে বধূর রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারের পরেই উত্তেজনা তৈরি হয় ভাঙড়ের নাংলা গ্রামে।

মৃৃতার পরিবারের অভিযোগ, আজ থেকে দশ বছর আগে নাংলার বাসিন্দা হান্নানের সঙ্গে বিয়ে হয় লিলুফা বিবির। বিয়ের পর থেকেই মনোমালিন্য হতে শুরু করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। লিলুফার উপর অত্যাচারের পরিমাণ বাড়তে থাকে ক্রমশ। অভিযোগ,  ধীরে ধীরে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন হান্নান। এরপরেই লিলুফার উপর মারধর অত্যাচারের পরিমাণ বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। হান্নানের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করলেই চ্যালাকাঠ দিয়ে স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে ফের তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তখন, লিলুফার উপর চড়াও হয়ে তাঁকে কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন হান্নান। তারপর  বৈদ্যুতিক শক ও শেষে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে লিলুফাকে খুন (Murder) করা হয় বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের।

মৃতার ভাইয়ের কথায়, “আমার দিদির সামনেই আমার জামাইবাবুু অন্য মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করত। শারীরিক সম্পর্কও ছিল। আমার দিদি প্রতিবাদ করায় তাকে চ্য়ালাকাঠ  দিয়ে মারত জামাইবাবু। শুক্রবার রাতেও ওদের ঝামেলা হয়। তখন দিদিকে চ্য়ালাকাঠ দিয়ে পেটায় জামাইবাবু। তারপর ইলেকট্রিকের তার দিয়ে শক দেয়। শেষে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে।”

বধূর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পালিয়ে যায় মৃতা লিলুফার স্বামী হান্নান মোল্লা। লিলুফার প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা পিন্টু মোল্লার বাড়িতে গিয়ে লুকিয়েছেন অভিযুক্ত। সঙ্গে নেতার বাড়ি ঘিরে ধরেন এলাকাবাসী। চলে বিক্ষোভ। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কাশীপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতদেহ দেখার পর তদন্তকারীদের অনুমান, কোনও ভারী জিনিস দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করা ও শ্বাসরোধ হওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে লিলুফার। এমনকী, তাঁর শরীরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার চিহ্নও মিলেছে। পলাতক হান্নানের খোঁজ করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখছে কাশীপুর থানার পুলিশ। আরও পড়ুন: ৬ মাস ধরে লাগাতার ‘ধর্ষণ’ গৃহকর্তার, গর্ভবতী হয়ে পড়লেন অন্ধ পরিচারিকা!

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla