হিজাবের ফতোয়াকে তোয়াক্কা নেই, রং বেরঙের পোশাকেই প্রতিবাদ আফগানি মহিলাদের

Afghan Women : সত্যিই সন্দেহ হয়! কোনটা আসল আফগানিস্তান, এই পোস্ট করা ছবিগুলো, যা কাবুলিওয়ালার দেশের সংস্কৃতি - ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, নাকি বুলেটের ক্ষতমাখা বাড়ির দেওয়ালগুলো!

হিজাবের ফতোয়াকে তোয়াক্কা নেই, রং বেরঙের পোশাকেই প্রতিবাদ আফগানি মহিলাদের
রং বেরঙের স্থানীয় পোশাকে আফগান মহিলারা

কাবুল : আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবান। শরিয়া আইন ইতিমধ্যেই কার্যকর হতে শুরু করে দিয়েছে সেখানে। মেয়েদের ক্রিকেট, ফুটবল খেলায় ফতোয়া জারি হয়েছে। এগুলি খেলতে গেলে নাকি শরীর দেখানো হয়। মেয়েদের হিজাব বাধ্যতামূলক করার কথা বলছে তালিবরা। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গেলে হিজাব লাগবে। আর এরই মধ্যে ভিতরে ভিতরে জমছে বিক্ষোভের আগুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে প্রতিবাদ। হিজাব নয়, রং বেরঙের স্থানীয় পোশাক পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করছেন আফগান মেয়েরা। এটাই তাঁদের প্রতিবাদের ভাষা।

একজন মানুষ কী পরতে চান, বা কী পরতে চান না… গোটাটাই একান্ত তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে দ্বিতীয় কেউ নাক গলানোর প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু আফগানিস্তানে অন্য সুর বাজে। যেখানে ভোর হয় গুলির আওয়াজে, যেখানে প্রতিটি অলি গলি, প্রতিটি বাড়ির দেওয়াল বুলেটের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বাঁচে, সেখানে তো অন্য সুর বাজবেই।

১৫ অগাস্ট তালিবান কাবুলের দখল নেওয়ার পর থেকে রক্ত ঝড়ছে সেখানে। বারবার তালিবদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে আফগানদের। বিশেষ করে আফগান মহিলাদের প্রতিবাদ চোখে পড়ছে। তা আরও বেড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে হিজাবের ফতোয়া জারি হওয়ার পর। প্রতিবাদ বাড়ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলিতে। হিজাব ফেলে রং বেরঙের স্থানীয় পোশাক পরে ছবি পোস্ট করছেন তাঁরা। যা দেখে সত্যিই সন্দেহ হয়! কোনটা আসল আফগানিস্তান, এই পোস্ট করা ছবিগুলো, যা কাবুলিওয়ালার দেশের সংস্কৃতি – ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, নাকি বুলেটের ক্ষতমাখা বাড়ির দেওয়ালগুলো!

শিক্ষামন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের মেয়েরা পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারবেন। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় স্তরেই পড়াশোনা করতে পারবেন তাঁরা। তবে এক্ষেত্রে ইসলামিক পোশাক থাকা আবশ্যিক। এবং মেয়েদের জন্য পৃথক ক্লাসরুম থাকতে হবে। মহিলারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলেও হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এই হিজাবে শুধু মাথা ঢাকতে হবে, নাকি মুখও ঢাকতে হবে, তা নিয়ে এখনও বিশদে কিছু জানায়নি হাক্কানি। আর শুধু পড়ুয়ারাই নন, অধ্যাপিকা এবং অন্যান্য মহিলা কর্মীদেরও একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। হিজাব ছাড়া কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দিতে আসা যাবে না।

সম্প্রতি একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ইউনিভার্সিটির হলে বসে আছেন ছাত্রীরা। তাঁদের মুখ-মাথা ঢাকা কালো কাপড়ে। শুধু চোখের ওপরের আস্তরণটা কিছুটা পাতলা, যা দিয়ে বাইরেটা দেখা যায়। তালিবানের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড ধরতে দেখা যায় ওই মহিলাদের। ৯/১১ হামলার বর্ষপূর্তির দিন ওই ছবি সামনে আসে। পরে জানা গিয়েছে, কার্যত ভয় দেখিয়েই তালিবানকে সমর্থন করতে বাধ্য করা হয়েছে তাদের।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী জানিয়েছেন, কালো পোশাক পরে ইউনিভার্সিটি হলে জড় হতে বলা হয়েছিল আমাদের। এক ঘণ্টা সেখানে বসতে বলা হয়। তালিবানই ওই সব পোশাক দিয়েছিল আমাদের। আমাদের বলা হয়েছিল, তোমরা যদি উপস্থিত না হও, তাহলে ইউনিভার্সিটি থেকে বহিস্কার করা হবে। আর কোনওদিন কোনও ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারবে না।

আরও পড়ুন : শিক্ষামন্ত্রী কুখ্যাত ‘জঙ্গি’! কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের প্রবেশাধিকারে একটা শর্ত…

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla