শত্রুতা নাকি বন্ধুত্ব, ঠিক করুক পাকিস্তান, তোপ আফগান প্রেসিডেন্ট ঘানির

আফগান রাষ্ট্রপতির দাবি,পাকিস্তানের তিনটি শহর কোয়েটা, মীরামশাহ এবং পেশোয়ারে তালিবানিদের শক্তিকেন্দ্র। এই তিনটি শূরাই তালিবানদের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর সাফ বক্তব্য, এখন পাকিস্তানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় নাকি শত্রুতা।

শত্রুতা নাকি বন্ধুত্ব, ঠিক করুক পাকিস্তান, তোপ আফগান প্রেসিডেন্ট ঘানির
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘানি

জ্যোতির্ময় রায়: সন্ত্রাসবাদীদের সংরক্ষণ কেন্দ্র পাকিস্তান (Pakistan), এমনটাই মনে করে বিশ্বের বহু দেশ। এই নিয়ে এবার আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানি (Ashraf Ghani)-ও পাকিস্তানকে একহাত নিলেন।

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি তাঁর দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী করলেন পাকিস্তানকে। ইমরান খানের দেশের দিকে আঙুল তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান তালিবানিদের সমর্থন করতে একটি সুসংহত ব্যবস্থা তৈরি করেছে। তাদের সমস্ত অভিযান সেখান থেকেই পরিচালিত হয়। এমনকি তালিবানিদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও হয় পাক মাটিতেই। দাবি ঘানির। শুধু তাই নয়, তালিবানিদের অর্থ সাহায্য বা ফান্ডিংও হয় পাকিস্তান থেকে, এমনই দাবি আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতির।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান ভিত্তিক হাক্কানি নেটওয়ার্ক থেকে তালিবানি সংগঠন, সমস্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের অভয়ারণ্য হিসেবে ইমরানের দেশের দিকে আঙুল উঠেছে। ২০১২ সালে এই হাক্কানি নেটওয়ার্ককে সন্ত্রাবাদী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত করে আমেরিকা।

সম্প্রতি আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন তালিবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের এগিয়ে আসা উচিত। আফগানিস্তানে শান্তির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখন খুব সীমিত বলে জানিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, আমেরিকা ইদানীং সময়ে আফগানিস্থান থেকে নিজেদের সৈন্য ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইমরান সরকার। তাই জরুরি ভিত্তিতে পাক সরকার আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে। সোমবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত নজিবউল্লাহ আলিখেলকে একটি আপত্তি পত্র জারি করা হয়েছে। তবে সেই পত্রে আফগানিস্তান সরকারকে ক্ষুব্ধ করে এমন বক্তব্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেখছে। কিন্তু আফগানিস্তানের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছে। মুখপাত্র যোগ করেন, তালিবান প্রসঙ্গে আফগানিস্তান যা বলেছে তা ভিত্তিহীন। এ জাতীয় অভিযোগে এক রাষ্ট্রের প্রতি অন্য রাষ্ট্রের বিশ্বাসকে হ্রাস হয়।

এদিকে আফগান রাষ্ট্রপতির দাবি,পাকিস্তানের তিনটি শহর কোয়েটা, মীরামশাহ এবং পেশোয়ারে তালিবানিদের শক্তিকেন্দ্র। এই তিনটি শূরাই তালিবানদের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর সাফ বক্তব্য, এখন পাকিস্তানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় নাকি শত্রুতা।

আরও পড়ুন: ১ দিনেই তিনটি বিস্ফোরণ, মৃত ২! লাগাতার বোমাবাজিতে সন্ত্রস্ত কাবুল 3-blasts-in-kabul-on-saturday

উল্লেখ্য, এফএটিএফ (FATF) বিশ্বব্যাপী মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক তহবিলে সহায়তার প্রেক্ষিতে ২৭টির মধ্যে ছয়টি বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করেছে। এবার আফগানিস্তানের বিবৃতিতে আরও চাপে পড়ল পাক সরকার।