‘ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ’ বিশ্বের কাছে বিপজ্জনক : হু

ভ্যাকসিন নিয়েও বৈষম্য প্রত্যক্ষ করছে বিশ্বের গরিব দেশগুলি।

‘ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ’ বিশ্বের কাছে বিপজ্জনক : হু
ফাইল চিত্র
সুমন মহাপাত্র

|

Jan 30, 2021 | 6:18 PM

দাভোস: করোনার ভ্যাকসিন বেরলেও তার সুবিধা পাচ্ছে কয়েকটি মুষ্টিমেয় দেশ। অতিমারিতে গরিব দেশগুলিকে টিকার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকতে হচ্ছে। এইভাবে ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম’(vaccine nationalism) চললে কোভিড-১৯ (covid-19) অতিমারি চলতেই থাকবে। সহজে যাওয়ার নয় এই অতিমারি। এমনই মন্তব্য় করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)’প্রধান টেড্রস আধানম ঘেব্রিয়েসুস (Tedros Adhanom Ghebreyesus)।

Gfx

শুক্রবার ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের দাভোস এজেন্ডা সম্মেলনের শেষ দিনের আলোচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জানান, বহু দেশ নিজেদের জন্য ভ্যাকসিন গচ্ছিত রাখছে। এতে বাকি বিশ্ব বিশাল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম’কে ভয়ঙ্কর বলেও বর্ণনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় উপড়ে ফেলা হল গান্ধীমূর্তি, ‘ভাল দিন’ লিখল খালিস্তান সমর্থকরা

প্রসঙ্গত, এই শনিবারই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণা মাফিক করোনা অতিমারি এক বছর পূর্ণ করল। কাকতালীয়ভাবে গত বছর জানুয়ারিতে দাভোস এজেন্ডা সামিটের মাঝপথে উঠে গিয়ে করোনার জন্য জরুরিকালীন বৈঠকে বসেছিলেন হু প্রধান। এবারের দাভোস সম্মেলনে তিনি মন্তব্য় করেন, এই অতিমারি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সামাজিক বৈষম্য় কী। এখন করোনা রোখার অস্ত্র, ভ্যাকসিন নিয়েও একই ধরনের বৈষম্য প্রত্যক্ষ করছে বিশ্বের গরিব দেশগুলি। ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ অতিমারিকে আরও দীর্ঘমেয়াদি করে তুলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, করোনা বিধ্বস্ত প্রতিটি দেশ যাতে ভ্যাকসিন পায় তার দিকে নজর দেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে উন্নত দেশগুলিকে বড় দায়িত্ব দরকার বলে মনে করেন টেড্রস আধানম।

আরও পড়ুন: রাফালের চেয়েও শক্তিশালী যুদ্ধ বিমান আসতে পারে ভারতে, আপত্তি নেই আমেরিকার

আধানম জানান, যে দেশগুলি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্কদের প্রতিষেধক দিয়ে দিয়েছে, তাদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। যে দেশগুলি এখনও ভ্যাকসিন পায়নি, তারাও যাতে সেই সুযোগ পায় তার জন্য সর্বদা সচেষ্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। টেড্রসের এই মন্তব্যের সমর্থন করেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী, জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রমুখ। ফাইজার (Pfizer)-এর সিইও অ্যালবার্ট বর্লা বলেন, “সমস্য়া হল প্রতিটি দেশই একসঙ্গে ভ্যাকসিন চাইছে।”

‘ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ’ (vaccine nationalism) আসলে কী?

প্রথম বিশ্বের দেশগুলি যদি অর্থের ক্ষমতায় ভ্যাকসিন নিতে শুরু করে তখন বাকি দেশগুলির কী হবে? এখান থেকেই ভ্য়াকসিন ন্যাশনালিজম শব্দের উৎপত্তি। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে আগাম চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষেধক পেয়ে যাচ্ছে বিত্তশালী দেশগুলি। এদিকে বিশ্বের জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনা করলে এই সীমিত টিকা যদি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলি না পায় তাহলে অতিমারি করোনা থেকে মুক্তি নেই বলে সাবধান করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থার প্রধান।

নতুন নয় ‘ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ’

গত ১০০ বছরের মধ্যে করোনার মতো অতিমারি দেখেনি বিশ্ব। তবে ২০০৯ সালে H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা সোয়াইন ফ্লু-র সময় একইভাবে ভ্যাকসিনের আগাম বুকিং করে রেখেছিল ধনী দেশগুলি। অস্ট্রেলিয়ার হাতে প্রথম এসেছিল সোয়াইন ফ্লুর টিকা। কিন্তু তারা কেবল ধনী দেশগুলিকেই টিকা রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে সোয়াইন ফ্লু বিধ্বস্ত আফ্রিকার দেশগুলি ভ্যাকসিন পৌঁছতে বহু সময় লেগে গিয়েছিল। এবার করোনা পরিস্থিতিতেও আমেরিকা, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদের অভিযোগ উঠেছে। এই তালিকা থেকে বাদ যায়নি ভারতও।

‘ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ’ ঠেকাতে কোনও আইন নেই!

দুঃখের বিষয় হল, বিশ্বব্যাপী মানুষের স্বাস্থ্য়ের বিষয় যেখানে জড়িত, মানব স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করার মতো একটি বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনও আইনই নেই! অতিমারি পরিস্থিতিতে বিত্তশালী দেশগুলির যত খুশি টিকা কিনে নেওয়ার কিংবা আগাম চুক্তি রুখতে নেই কোনও আন্তর্জাতিক বিধি-নিষেধ!

তাই অতিমারি পরিস্থিতিতে প্রতিটি দেশ যদি কাঁধে কাঁধ না মিলিয়ে কাজ করে, একে অন্যকে সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে দেয়, তবে ভ্যাকসিন নিয়ে এই বৈষম্য শেষ হওয়ার নয়।

Latest News Updates

Follow us on

Most Read Stories

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla