
বারাণসী: প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে স্বামীকে ছেড়েছিলেন। বিহারের নওয়াদা জেলার ২০ বছরের সেই তরুণী শেষ পর্যন্ত প্রেমিকের হাতে খুন হলেন। অভিযোগ, খুনের পর তরুণীর দেহ একটি ট্রলি স্যুটকেসে ভরে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। ঘটনাটি ঘটেছিল দাদরা ও নগর হাভেলির সিলভাসায়। খুনের প্রায় দু’মাস পর অভিযুক্ত ঋষভ কুমার সিংকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সেখানে পরিচয় বদলে একটি সংস্থায় কাজ করছিল সে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণী ছোটি উপাধ্যায়ের সঙ্গে ঋষভের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দু’জনেই একই গ্রামের বাসিন্দা। তবে সম্পর্কের সময় ছোটি বিবাহিত ছিলেন। তরুণীর জোরাজুরিতেই দু’জনে গ্রাম ছেড়ে দাদরা ও নগর হাভেলির সিলভাসায় চলে যান। সেখানে তাঁরা বিয়েও করেন। কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি দুই পরিবার। ছোটিকেও তাঁরা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এদিকে, ঋষভের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছিল।
বিয়ের পর বারবার গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য ঋষভকে চাপ দিতে থাকেন ছোটি। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ৯ জুন সকালে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যায় ছোটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ঋষভ। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে ছোটির দেহ দড়ি দিয়ে বেঁধে প্লাস্টিকে মুড়ে ফেলে অভিযুক্ত। তারপর দেহটি একটি ট্রলি স্যুটকেসের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে। ঘরে তালা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ঋষভ। পরে বারাণসীতে গিয়ে পরিচয় গোপন করে একটি বেসরকারি সংস্থায় শ্রমিকের কাজ শুরু করে।
প্রায় দু’মাস পর উদ্ধার দেহ-
খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে প্রায় দু’মাস পর। গত ৩ অগস্ট বাড়িওয়ালা ঘরটি নতুন ভাড়াটিয়াকে দেওয়ার জন্য তালা ভাঙেন। সেই সময় বাথরুমে রাখা একটি স্যুটকেস থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখেন তিনি। স্যুটকেস খুলতেই ছোটির দেহ উদ্ধার হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানতে পারে, ঋষভ বারাণসীতে রয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের একটি যৌথ দল বারাণসীর একটি বেসরকারি সংস্থায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই ঋষভকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে নিজের পরিচয় বদলে কাজ করছিল অভিযুক্ত।