
কলকাতা: বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে অবসরকালীন পরিকল্পনা। সেক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হয়। প্রথমত, সঞ্চিত অর্থ যেন অন্তত সারা জীবন চলে। দ্বিতীয়ত, কর্মজীবন শেষ হওয়ার পরও যেন নিয়মিত আয় বজায় থাকে। স্বাভাবিকভাবেই, এই উদ্দেশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে পূরণ করতে পারে পেনশন। কিন্তু সরকার ছাড়া খুব কম সংস্থাই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন দিয়ে থাকে। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অ্যানুইটি প্ল্যান। এই ধরনের প্ল্যান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী আজীবন নিয়মিত অর্থ পাওয়ার সুযোগ দেয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক অ্যানুইটি প্ল্যানের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং এর মাধ্যমে কীভাবে উপকৃত হওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে অ্যানুইটি প্ল্যান?
অ্যানুইটি প্ল্যান ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করা যায়। এই ধরনের প্ল্যান সাধারণত বিমা সংস্থাগুলি দিয়ে থাকে। কোনও ব্যক্তি নিজের পছন্দের অ্যানুইটি প্ল্যানে এককালীন টাকা বিনিয়োগ করেন। সেই টাকা বিমা সংস্থা বিনিয়োগ করে এবং তার বিনিময়ে গ্রাহককে নিয়মিত অর্থ প্রদান করে।
এই অর্থ মাসিক, ত্রৈমাসিক অথবা বার্ষিক ভিত্তিতে নেওয়া যায়। গ্রাহককেই আগে থেকে নির্ধারণ করতে হয় কত ঘন ঘন তিনি টাকা পেতে চান। অ্যানুইটির মেয়াদ-সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে পেআউটের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। কেউ চাইলে সারা জীবন পেনশন পেতে পারেন, আবার নির্দিষ্ট সময়ের জন্যও পেনশন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কোন কোন বিষয়ের উপর পেআউট নির্ভর করে?
PFRDA (পেনশন ফান্ড রেগুলাটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি)-র মতে, অ্যানুইটি থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সেই সময়কার সুদের হার, গড় আয়ু এবং অ্যানুইটির ধরন। যেমন, গ্রাহক সিঙ্গল লাইফ নাকি জয়েন্ট লাইফ বেছে নিচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর মূল বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তার উপরও পেআউট নির্ভর করতে পারে।
অ্যানুইটি থেকে পাওয়া আয়ের পরিমাণ আরও কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এটি ফিক্সড অ্যানুইটি থেকে ভ্যারিয়েবল অ্যানুইটি পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। ভ্যারিয়েবল অ্যানুইটির ক্ষেত্রে মূল বিনিয়োগ যে সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার পারফরম্যান্সের উপর নিয়মিত পেআউটের পরিমাণ নির্ভর করে।
কী কী ধরনের অ্যানুইটি প্ল্যান রয়েছে?
গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যানুইটি প্ল্যান রয়েছে। যেমন—
ডিফার্ড অ্যানুইটি প্ল্যান: ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে এই ধরনের প্ল্যান সাহায্য করে। গ্রাহক নিয়মিত টাকা বিনিয়োগ করে একটি তহবিল বা কর্পাস তৈরি করেন। অবসরের পর সেই কর্পাস থেকে পেনশন পাওয়া শুরু হয়।
ইমিডিয়েট অ্যানুইটি প্ল্যান: নাম থেকেই বোঝা যায়, এই ধরনের প্ল্যানে দ্রুত অ্যানুইটি বা পেনশন পাওয়া শুরু করা যায়। গ্রাহক বিমা সংস্থাকে এককালীন টাকা দেন। এরপর সেই টাকা থেকে বিমা সংস্থা নিয়মিত, সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে, অর্থ প্রদান শুরু করে।
অ্যানুইটি ফর লাইফ: এই ধরনের প্ল্যানে অ্যানুইটি ক্রেতা জীবিত থাকা পর্যন্ত নিয়মিত টাকা পান। গ্রাহকের মৃত্যু হলে সেই অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। বিমা সংস্থা মূল বিনিয়োগের টাকা গ্রাহকের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে বাধ্য নয়। এর ফলে গ্রাহক তুলনামূলক বেশি অ্যানুইটি পেতে পারেন।
অ্যানুইটি উইথ রিটার্ন অব পারচেজ প্রাইস: ‘অ্যানুইটি ফর লাইফ’-এর সঙ্গে এই প্ল্যানের পার্থক্য হল, গ্রাহকের মৃত্যুর পর মূল বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। গ্রাহক জীবিত থাকা পর্যন্ত নিয়মিত অ্যানুইটি পেতে থাকেন। তাঁর মৃত্যুর পর মূল বিনিয়োগের টাকা আইনত উত্তরাধিকারীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
জয়েন্ট-লাইফ অ্যানুইটি: এই ধরনের অ্যানুইটি একজন ব্যক্তি নিজের এবং তাঁর জীবনসঙ্গীর জন্য নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রাথমিক গ্রাহক জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি অ্যানুইটি পান। তাঁর মৃত্যুর পর চুক্তির সময় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী তাঁর জীবনসঙ্গী অ্যানুইটি পেতে থাকেন। নির্দিষ্ট কোনও অপশন বেছে নিলে দুই জীবনসঙ্গীরই মৃত্যুর পর মূল বিনিয়োগের টাকা আইনত উত্তরাধিকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।