
নয়া দিল্লি: ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের জেরে চরম সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।
ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU) একটানা ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এর অধীনে দেশের ৯০ শতাংশ পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক, প্রাইভেট সেক্টর ব্যাঙ্ক, বিদেশি ব্যাঙ্ক, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক রয়েছে। তারা জানিয়েছে যে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট করা হবে। এরপর ২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বরও ব্যাঙ্ক ধর্মঘট থাকবে। দাবি যদি না মানা হয়, তাহলে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU)-র অন্যতম দাবি হল, সপ্তাহে পাঁচদিন ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে, দুইদিন ছুটি থাকবে। ইউনিয়নের দাবি, ২০২৪ সালেই ব্যাঙ্কগুলির তরফে পাঁচদিন ব্যাঙ্ক চালু রাখার নিয়মে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। মাসে দুটি শনিবার ছুটির বদলে, প্রতি শনিবার ও রবিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। এর বদলে সোমবার থেকে শুক্রবার ওয়ার্কিং আওয়ার বা কাজের সময় ৪০ মিনিট করে বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
ব্যাঙ্ক কর্মীরা এই প্রস্তাবে রাজি হলেও, তা এখনও অর্থ মন্ত্রকের কাছ থেকে সম্মতি পায়নি। দুই বছর ধরে তোলা এই দাবি পূরণের জন্যই ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনিয়ন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি যে নতুন ইনসেনটিভ স্কিম এনেছে, তা নিয়েও আপত্তি তুলে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দাবি করেছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠন। সরকারের পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ ((Performance Linked Incentive) -কে “একতরফা ও বৈষম্যমূলক” বলে এই স্কিম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস।
ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন জানিয়েছে, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (Indian Banks’ Association) এবং ব্যাঙ্ক কর্মী ইউনিয়নগুলির মধ্যে একটি চুক্তির ভিত্তিতে বর্তমান পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম চালু হয়েছিল। এই স্কিমে ব্যাঙ্কের কর্মী এবং স্কেল-১ (Scale I) থেকে স্কেল-৭ (Scale VII) পর্যন্ত অফিসাররা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ব্যাঙ্কের পারফরম্যান্স ও লাভের উপর নির্ভর করে কর্মীরা ন্যূনতম এক দিনের বেতন থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেতন পর্যন্ত ইনসেনটিভ পেতেন। একই ব্যাঙ্কের কর্মীদের জন্য এই ইনসেনটিভের নিয়ম ছিল অভিন্ন।
ইউনিয়নের দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে অর্থমন্ত্রকের অধীন ডিপার্টমেন্ট অন ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (DFS) ব্যাঙ্কগুলিকে স্কেল-৪ (Scale IV) থেকে স্কেল-৭ (Scale VII) অফিসারদের জন্য নতুন ইনসেনটিভ ফর্মুলা চালু করার নির্দেশ দেয়।
ইউনিয়নগুলির অভিযোগ, এই নির্দেশ ২০২০ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিরোধী। কারণ নতুন ব্যবস্থায় ব্যাঙ্কের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বদলে প্রতিটি অফিসারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইউনিয়নের দাবি, নতুন স্কিমে নির্দিষ্ট অফিসারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৩৬৫ দিনের বেতন পর্যন্ত ইনসেনটিভ দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, পুরনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তির স্কিমে সর্বোচ্চ ইনসেনটিভ ছিল ১৫ দিনের বেতন।
দেশের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। তার মধ্যে Scale IV থেকে Scale VII পর্যায়ের অফিসারের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার, অর্থাৎ মোট কর্মীর প্রায় ৫ শতাংশ। ইউনিয়নের দাবি, বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ইনসেনটিভ এক দিনের বেতন, অথচ নতুন স্কিমের আওতায় থাকা ৫ শতাংশ অফিসার সর্বোচ্চ ৩৬৫ দিনের বেতন পর্যন্ত ইনসেনটিভ পেতে পারেন।
ইউনিয়নগুলি এই নির্দেশের বিরোধিতা করে IBA-র সঙ্গে আলোচনা করে এবং সরকারের নতুন ফর্মুলায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়। তবে এখনও DFS বা সরকারের কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি UFBU-র।
ইউনিয়নের আরও দাবি, নতুন DFS স্কিমটি পুরনো পারস্পরিকভাবে সম্মত অভিন্ন PLI ব্যবস্থার পরিপন্থী। নতুন ব্যবস্থায় ব্যাঙ্কের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বদলে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে অফিসারদের ‘ভালো পারফর্মার’ এবং ‘খারাপ পারফর্মার’—এই ধরনের আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করতে হবে বলেও অভিযোগ করেছে UFBU। তাদের দাবি, এর ফলে মোট কর্মীর মাত্র ৫ শতাংশের জন্য অতিরিক্ত ও অসম হারে ব্যাঙ্কের খরচ বেড়ে যেতে পারে।