
নয়াদিল্লি: আমেরিক ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। তারই মধ্যে গতি পেল ভারতের অর্থনীতি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত GDP (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধির হার দাঁড়াল ৭.৮ শতাংশ। সোমবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে GDP বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত GDP-র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। GDP বৃদ্ধির এই হার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) ৭ শতাংশ পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকের জন্য RBI ৭ শতাংশ GDP বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থনীতির এই বৃদ্ধির পিছনে মূল ভূমিকা নিয়েছে পরিষেবা এবং সেকেন্ডারি সেক্টর। প্রকৃত GVA (গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড) বৃদ্ধির হার হয়েছে ৮.২ শতাংশ। এর মধ্যে পরিষেবা ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ, আর সেকেন্ডারি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ৮.৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম, ৩.৬ শতাংশ।
ব্যয়ের নিরিখেও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ছবি ধরা পড়েছে। গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটেল ফর্মেশন (GFCF) বা স্থায়ী মূলধন গঠন বেড়েছে ১১.৯ শতাংশ। এক বছর আগে একই সময়ে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৮ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে বিনিয়োগের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশের সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজন ও পরিষেবার জন্য যে টাকা খরচ করে, সেই PFCE (প্রাইভেট ফাইনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার) বেড়েছে ৭.১ শতাংশ। রফতানিও বেড়েছে ১২ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে নমিনাল GDP-র পরিমাণ ১০.৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৮.২৭ লক্ষ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির এই হার কিছুটা কমে যেতে পারে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হল অপরিশোধিত তেলের দাম। ভারত তার তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে। আইসিআরএ-র প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের মতে, কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান খরচ মুনাফাকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের উপরে। যদি ইরান যুদ্ধের প্রভাব আরও বাড়ে, তবে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য অর্থনীতির উপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।