
সদ্য তৃতীয় বিয়ে সেরেছেন আমির খান। কয়েকদিন বিদেশে ছুটেছেন হানিমুনের জন্য। তার মাঝে সোনম ওয়াংচুককে চিনতেন না মন্তব্য করার নিয়ে মন্তব্য করায় বিতর্কেও জড়িয়ে ছিলেন বলিউড অভিনেতা। আর এবার সামনে এল আমিরকে নিয়ে এমন এক তথ্য যা নিয়ে এখন তোলপাড়া বলিপাড়া।
কী করেছেন আমির?
ব্য়াপারটা একটু বিশদে বলা যাক। ‘করিশমা কা করিশমা’, ‘কোরা কাগজ’ কিংবা ‘স্বপ্না বাবুল কা’-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী ইভা গ্রোভার। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং বলিপাড়ার মেগাস্টার আমির খানের সৎ ভাই হায়দার আলি খানের সঙ্গে বিবাহিত জীবন নিয়ে আগেও একাধিকবার মুখ খুলেছেন তিনি। এই বিয়েকে নিজের জীবনের “সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়” বলে আখ্যা দিলেও, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন স্বামীর বর্তমান শোচনীয় অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সহানুভূতি প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী।
সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইভা জানান, হায়দার এখন অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ইভার কথায়, “আজ হায়দারের অবস্থা খুবই খারাপ। ওর নিজস্ব কোনও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, এমনকী দু’বেলা খাওয়ার মতো সংস্থানও নেই। কখনও চালের মধ্যে কোনও বস্তিতে কেউ তাঁকে থাকতে দিচ্ছেন, আবার কখনও কোনও বন্ধু সাহায্য করছেন। বিষয়টা ভেবে আমার খুব কষ্ট হয়। যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে, কিন্তু মানবিকতার খাতিরে বলতে পারি—উনি একসময় আমার স্বামী ছিলেন।”
হায়দার যে বর্তমানে ভুল সঙ্গ ও নেশার কবলে পড়েছেন, তা উল্লেখ করে ইভা আরও যোগ করেন, “ওর চারপাশে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা ওকে অনবরত মদ খাইয়ে চলেছে। ওর দেখভাল করার মতো কেউ নেই। আমি শুধু একটাই প্রার্থনা করি, যখনই ওর সময় আসবে, ও যেন অন্তত শান্তি পায়। লোকটা জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছে।”
নিজের দাম্পত্য জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইভা জানান, বিয়ের আগে তিনি জানতেনই না যে হায়দার ‘সিজোফ্রেনিয়া’ (Schizophrenia) নামক মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। তিনি বলেন, “আমাদের বিয়ের ঠিক তিন দিনের মাথায় আমি প্রথম ওর হিংস্র রূপ দেখি। ওর সিজোফ্রেনিয়া ছিল, কিন্তু তখন আমি এই রোগের মারাত্মক গভীরতা বুঝতে পারিনি। বিয়ের আগে মাত্র ১৮ দিনের পরিচয়ে আমি শুধু ওর ভদ্র রূপটাই দেখেছিলাম। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায়, এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ও আমাকে আচমকাই মারধর করতে শুরু করে। কেন এমনটা হচ্ছিল, তখন আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি।”
সংসার বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টার কথা বলতে গিয়ে ইভা জানান, “আমার বিবাহিত জীবন মারাত্মক শারীরিক হিংস্রতায় ভরা ছিল। তবুও সংসারটা বাঁচানোর খুব চেষ্টা করেছিলাম। ভেবেছিলাম একটি সন্তান হলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। মেয়ে হওয়ার পরপরই আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং আমাকে মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”
ইভার সংযোজন, “আমার কাকা এবং আমার শ্যুটিং ইউনিটের সহকর্মীরা আমার মাকে বোঝান যে আমার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। আমার সারা শরীরে কালশিটের দাগ ছিল। সবাই বলেছিল ওখানে থাকলে আমি আর বেঁচে ফিরব না। অবশেষে আমাদের আইনি বিচ্ছেদ ঘটে।”