
২০ দিন ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশনে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। হ্যাঁ, এতদিন ধরে সাধারণ মানুষ যাকে আমির খানের থ্রি ইডিয়টস ছবির ফুনসুখ ওয়াংড়ু নামেই চিনতেন। তবে এতদিনের এই প্রচলিত ধারণাকে একেবারে নসাৎ করে দিলেন আমির। ‘লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-ওয়াংচুক প্রসঙ্গ উঠতেই, আমিরের সাফ জবাব, থ্রি ইডিয়েটসের ফুনসুক ও ওয়াংচুক একই ব্যক্তি নয়। এই ছবি একেবারেই সোনমের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত নয়। তবে এখানেই থামলেন না আমির। যখন গোটা দেশ উত্তাল সোনমের অনশন নিয়ে, যখন সবাই অধীর অপেক্ষায় ছিলেন আমির সোনম প্রসঙ্গে কী বলবেন, ঠিক তখনই বলিউড পারফেকশনিস্ট আমির জানিয়ে দেন, তিনি সোনমকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেনই না!
২০০৯ সালে মুক্তি পায় পরিচালক রাজকুমার হিরানী পরিচালিত থ্রি ইডিয়টস। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন আমির খান, আর মাধবন, শরমণ যোশী, করিনার কাপুরের মতো তারকারা। এই ছবির গল্প মূলত, চেনত ভগতের ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। তবে ছবির আমিরের চরিত্রটিতে সোনম ওয়াংচুকের ছায়ায় তৈরি হয়েছিল। এই ছবির মুক্তির বেশ কয়েকমাস পড়ে কৌন বনেগা ক্রোড়পতিতে আসেন সোনম ওয়াংচুক। সেই সময় পরিবেশকে বাঁচাতে লড়াইয়ে কোমর বেঁধেছেন সোনম। অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে হট সিটে বসে সোনম তখন আমিরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা বলেছিলেন। তখন অবশ্য আমিরের থ্রি ইডিয়টস মুক্তি পায়নি।
কৌন বনেগা ক্রোড়পতিতে সোনম ওয়াংচুক।
কেবিসিতে এসে সোনম জানিয়ে ছিলেন, ২০০৮ সালে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে আমিরের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। বলিউড নায়কের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের পর, সোনম তাঁকে বলেছিলেন সিয়া-চিন নিয়ে ছবি বানাতে। সঙ্গে অনুরোধ করেছিলেন ছবিটা যেন যুদ্ধের উপর নির্ভর না হয়ে, শান্তির প্রচার করে। সোনমের এই পুরনো ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, আমির কী তাহলে সোনমের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ ভুলে গিয়েছেন? নাকি বিতর্ক থেকে বাঁচতে এড়িয়ে যাচ্ছেন সেই পুরনো কাসুন্দি!
সোনমকে নিয়ে ঠিক কী বলেছেন আমির?
‘লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর মঞ্চে ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার একটি বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। এর ঠিক পরেই এক প্রশ্নোত্তর পর্বে এই ব্লকবাস্টার ছবি নিয়ে দীর্ঘদিনের এক বড়সড় বিভ্রান্তি দূর করলেন স্বয়ং আমির খান।
সরাসরি গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে অভিনেতা জানান, “অনেকের মনেই একটা ভুল ধারণা গেঁথে রয়েছে যে, এই ছবিটি সোনম ওয়াংচুকের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সত্যতা নেই। যখন এই সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছিল, তখন আমাদের কারোরই ওঁর সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। এমনকী ব্যক্তিগত স্তরেও আমি ওঁর বিষয়ে কিছুই জানতাম না।”