
ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতির আঙিনায় এমন কিছু জীবনকাহিনী থাকে, যা রূপোলি পর্দার গল্পকেও হার মানায়। সাধারণ এক আদিবাসী পরিবার থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার তেমনই এক অসামান্য ও অনুপ্রেরণামূলক লড়াই এবার উঠে আসতে চলেছে পর্দায়। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জীবন নিয়ে তৈরি হতে চলা একটি নতুন তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি প্রযোজনা করতে চলেছে বলিউডের অন্যতম শীর্ষ প্রযোজনা সংস্থা ‘আমির খান প্রোডাকশনস’।
সমাজ সচেতনতা ও মানবিক আবেদনমূলক কাজের জন্য পরিচিত বিশিষ্ট পরিচালক ও লেখিকা স্বাতী চক্রবর্তী ভাটকল এই তথ্যচিত্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তথ্যচিত্রে রাষ্ট্রপতি মুর্মুর ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে তাঁর রাজনৈতিক সফরের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবর্তন তুলে ধরা হবে। ওড়িশার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে ভারতের প্রথম আদিবাসী নারী রাষ্ট্রপতি এবং দেশের দ্বিতীয় মহিলা রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার রূপকথা ছোঁয়া পথচলাই হবে এই ছবির মূল উপজীব্য।
ছবিটিতে রাষ্ট্রপতির জীবনের সেই সমস্ত অমোঘ মুহূর্তগুলোকে তুলে ধরা হবে, যা তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর চলার পথের নানাবিধ কঠিন চ্যালেঞ্জ, একের পর এক ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, গভীর শোক এবং সেই সমস্ত বাধা পেরিয়ে প্রবল ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প দেখা যাবে পর্দায়। একই সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ জনসেবামূলক জীবন এবং অদম্য মানসিক দৃঢ়তা— যার জোরে তিনি আজ রাইসিনা হিলসের বাসিন্দা, তাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে এই তথ্যচিত্র।
কেবলমাত্র রাজনৈতিক মাইলফলক ছোঁয়াই নয়, বরং এই কাজটির মাধ্যমে দ্রৌপদী মুর্মুর অটল সংকল্প ও ধৈর্যের এক অন্তরঙ্গ প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন নির্মাতারা। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে তাঁর এই জীবনকাহিনিকে পরিবেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা, সামাজিক ইস্যু এবং মানবিক রূপান্তরের গল্প পর্দায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমির খান প্রোডাকশন্সের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। বিনোদনের পাশাপাশি যা দর্শককে ভাবিয়ে তুলবে— এমন বহু কালজয়ী কাজ উপহার দিয়েছে এই ব্যানার।
এই প্রজেক্টের মাধ্যমে পরিচালক স্বাতী চক্রবর্তী ভাটকলের সঙ্গে আমির খানের দ্বিতীয় কোলাবোরেশন বা যৌথ কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে। এর আগে ২০১৯ সালে আমির খান ও কিরণ রাও প্রযোজিত প্রশংসিত তথ্যচিত্র সংকলন ‘রুবরু রোশনি’ পরিচালনা করেছিলেন স্বাতী। যেখানে আমির খান নিজে সূত্রধরের ভূমিকায় ছিলেন এবং হিংসা, ক্ষতি ও ক্ষমার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।
নতুন এই প্রজেক্টে সত্যতার খামতি রাখতে চান না নির্মাতারা। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ওড়িশায় রাষ্ট্রপতির আদি গ্রামে এই তথ্যচিত্রের বেশ কিছু অংশের শ্যুটিংও সেরে ফেলা হয়েছে। তাঁর শৈশব এবং জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়কে বিশ্বস্ততার সঙ্গে পুনর্নির্মাণ করতে স্থানীয় অভিনেতাদেরই কাস্ট করা হয়েছে ছবিতে।
আসল লোকেশন, পুরনো আর্কাইভাল ফুটেজ এবং নাট্যরূপান্তরের এক চমৎকার মিশ্রণে দর্শককে দ্রৌপদী মুর্মুর ‘রাষ্ট্রপতি ভবন’ যাত্রার এক সম্পূর্ণ কোলাজ উপহার দিতে চলেছেন নির্মাতারা। পাশাপাশি, দেশের প্রথম আদিবাসী নারী হিসেবে তাঁর এই শীর্ষপদে আসীন হওয়ার সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব— যা আদিবাসী সমাজ ও অনগ্রসর মানুষের ক্ষমতায়নের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, তাও জোরালোভাবে আলোচিত হবে এই ডকু-ফিল্মে।