
আমির ও গৌরীর পরিচয় কিন্তু আজকের নয়। অভিনেতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর আগে বেঙ্গালুরুতে তাঁদের প্রথম আলাপ হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবন তাঁদের দুজনকে দুটি ভিন্ন পথে নিয়ে যায় এবং তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর ২০২৪ সালের শুরুর দিকে আমিরের খুড়তুতো বোন নুজহাত খানের মাধ্যমে তাঁরা আবারও একে অপরের সংস্পর্শে আসেন।
আমির জানিয়েছেন, এই সাক্ষাৎ ছিল একেবারেই আকস্মিক। এক পডকাস্টে অভিনেতা বলেন, “আমাদের দেখাটা ভুলবশত হয়েছিল। এরপর যোগাযোগ তৈরি হয়, আমরা বন্ধু হই এবং একসময় ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা জন্ম নেয়।” মুম্বাইয়ের প্রচারমাধ্যমের নজর থেকে দূরে থাকতে শুরুতে প্রায় দেড় বছর বেঙ্গালুরুতেই গোপনে দেখা করতেন এই জুটি।
কে এই গৌরী স্প্র্যাট?
গৌরী মূলত বেঙ্গালুরুর মেয়ে এবং একটি বহুজাতিক ও বহুসংস্কৃতির পরিবারে তাঁর বড় হওয়া। তাঁর বাবা রবার্ট স্প্র্যাট তামিল-ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত এবং মা রীতা স্প্র্যাট পাঞ্জাবি-আইরিশ পরিবারের সন্তান। গৌরীর ঠাকুরদা ফিলিপ স্প্র্যাট ছিলেন একজন ব্রিটিশ কমিউনিস্ট, যিনি ১৯২০-এর দশকে ভারতে এসে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন।
পেশাগত দিক থেকে গৌরী লন্ডনের ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস’ থেকে ফ্যাশন স্টাইলিং ও ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ভারতের বিখ্যাত সেলুন চেইন ‘BBlunt’-এর পার্টনার ও ডিরেক্টর এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ে এর একটি শাখা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি তিনি ‘আমির খান প্রোডাকশন্স’-এর কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। পূর্ববর্তী বিবাহ থেকে গৌরীর সাত বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে আমির খান নিজের বিয়ের তারিখ নিশ্চিত করে বলেন, “হ্যাঁ, আগামী ৫ জুলাই আমাদের বিয়ে। অত্যন্ত সাধারণ ও ছোট করে বাড়ির মধ্যেই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। শুধু দুই পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন কাছের বন্ধুবান্ধব উপস্থিত থাকবেন।”
গৌরীর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আমির জানান, গৌরীর সান্নিধ্য তাঁর জীবনে এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি নিয়ে এসেছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আবেগী হয়ে বলেন, “আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে গৌরীর মতো একজন মানুষ আমার জীবনে এসেছে। ও দারুণ একটা মেয়ে। ওর পাশে থাকলে আমি শান্তি পাই। এর আগে কিরণ বা রীনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক গভীর ছিল, কিন্তু ভাগ্যবশত তা টেকেনি। গৌরী আসার পর আমার মনে হয় আমি আজ সম্পূর্ণ হলাম।”
উল্লেখ্য, এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। এর আগে রীনা দত্ত এবং পরবর্তীকালে পরিচালক কিরণ রাওয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তবে প্রাক্তন স্ত্রীদের সঙ্গে এখনও আমিরের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং আমিরের নতুন জীবনের সিদ্ধান্তে তাঁর পরিবারের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে।