
গত ৫ জুলাই একেবারে ঘরোয়া আমেজে, ঘনিষ্ঠ বৃত্তে পাত্রী গৌরীর সঙ্গে সই-বিয়ে সেরেছেন আমির খান। আর বিয়ের মাত্র পাঁচদিনের মাথাতেই সুদূর বিদেশ থেকে এল জোড়া খুশির খবর। ষাটোর্ধ্ব আমিরের জীবনে নতুন ঘরণী যে ‘লাকি চার্ম’ হয়ে এসেছেন, তা বলাই বাহুল্য।
কী সেই সুখবর?
অনেকেই হয়তো ভাবছেন খান পরিবারে নতুন কোনও খুদে সদস্যের আগমন ঘটছে কি না। তবে টুইস্টটা অন্য জায়গায়— সুখবরটি আসলে আমিরের কেরিয়ারের। বিশ্বমঞ্চে এক বিশাল কোলাবোরেশনের হাত ধরে নতুন পালক জুটল আমির খান প্রোডাকশনসের মুকুটে। অস্ট্রেলিয়ার ‘মাইন্ড ব্লোয়িং ফিল্মস’ এবং ভারতীয় পরিচালক কবীর খানের ‘কবীর খান ফিল্মস’-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন আমির। যৌথ উদ্যোগে তৈরি হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মানের ছবি ‘সিল্কইয়ারা ৪১’।
বাস্তবের এক অসামান্য মানবিক জয়কে সেলুলয়েডে বন্দি করতে কোমর বেঁধে নামছেন দুই দেশের মাস্টারমাইন্ডরা। চিত্রনাট্য লিখছেন, খ্যাতনামা অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় লেখক অ্যান্ড্রু আনাস্তাসিওস। পরিচালনা করবেন ‘বজরঙ্গি ভাইজান’, ‘৮৩’ বা ‘এক থা টাইগার’ খ্যাত জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কবীর খান।
২০২৩ সালে উত্তরকাশীর সিল্কইয়ারা সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪১ জন শ্রমিককে ১৭ দিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর যেভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই সত্য ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক টানেলিং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আর্নল্ড ডিক্সের অবদানকে তুলে ধরা হবে এই ছবিতে। উত্তরাখণ্ডের সেই রুদ্ধশ্বাস সুড়ঙ্গ বিপর্যয় আর ৪১ জন শ্রমিকের অলৌকিক জীবনযুদ্ধের গল্প এবার পর্দায় আনছেন আমির। তবে শুধু সিনেমার ঘোষণা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বলিউড মেগাস্টার আমির খানের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ও! ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন। নতুন ছবির অংশ হতে পেরে গর্বিত প্রযোজক আমির খান জানান, “মাইন্ড ব্লোয়িং ফিল্মস এবং আমির খান প্রোডাকশনসের এই যুগান্তকারী মেলবন্ধনের কথা জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সিল্কইয়ারা টানেলের উদ্ধারকাজের ঘটনাটি সাহস আর মানবিকতার এক অনন্য নজির, যা আমার মনকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল। অদম্য ইচ্ছা ও উদ্ভাবনী শক্তির এই লড়াইকে দুই দেশের যৌথ প্রয়াসে বিশ্বমঞ্চে উদযাপন করাটা সত্যিই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।” নতুন বিয়ে আর নতুন ছবির মেগা প্রজেক্ট— সব মিলিয়ে আমিরের জীবনে এখন উৎসবের মেজাজ!