
গত বছর পুজোতেই মুক্তি পেয়েছে প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তর শেষ ছবি যত কাণ্ড কলকাতাতেই। অনীকের শেষ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আবির চট্টোপাধ্যায়। অনীক দত্তর মৃত্যুর খবর পেয়ে যেন থমকে গিয়েছেন। টিভি নাইন বাংলাকে থমথমে গলাতেই আবির বললেন, ”আমার সবচেয়ে বেশি বিঁধছে যে ওটা কেন শেষ ছবি হবে? মানে আমরা আমাদের অনিকদা মাঝেমধ্যে ওরকম বাজে কথা বলতেন। আর শোনা মাত্র আমরা রেগে যেতাম যে এসব কথা বলবে না অনীকদা। কিন্তু অনীকদা বলতেন, না শরীরটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর উত্তরে, আমি বলতাম সে হোক তুমি যেরকম বসে বসে ডিরেক্ট করো, ওরকম করেই হবে ছবিটা।”
একটু নস্ট্যালজিক হয়ে গিয়ে আবির জানান, ” আমাদের ছবির ৬০ বছরের সাকসেস পার্টি হল। ছবিটা খুব ভালো চলেছিল। আমরা পার্ক স্ট্রিটে পুরো টিম ছিলাম একসঙ্গে। সেখানে অনিকদার সঙ্গে কত রসিকতা করেছিলাম। আমরা জানি যে অনীকদার শরীরটা তো খুব দুর্বল হয়েই ছিল সেটা। তো তারপরেও যখন আবার একটা নতুন ছবি প্ল্যানিং হচ্ছিল আমাদের মনে মনে একটা ভাল লাগা ছিল যে ঠিক আছে চলো আবার লোকটা কাজ করবে। তার মধ্যে হঠাৎ এই খবর। আমি যখন প্রথম মানে যখন আমি বাড়িতে ঢুকে খবরটা পাই আমি ভেবেছি বোধহয় শারীরিক অসুস্থতা থেকে কিছু হয়েছে। তারপরে তো অনেক কিছু যেন শুনছি।”
আবিরের কথায়, ”অনিকদার শুধু ছবির ঘরানা না। আমি বলছি অনিকদার নিজের একটা স্টাইল ছিল। মানে দুই দিক থেকেই আমি বলব। আমি যদি বাইরে থেকে দেখি অনিকদা বেশ একটা হ্যান্ডসাম মানুষ, তার নিজস্ব কায়দা। দ্বিতীয়ত অনিকদার মতবাদ বলো, অনিকদার বিশ্বাস বলো, অনিকদার সেন্স অফ হিউমার, অনিকদার পড়াশোনা বলো, ইন্টেলেক্ট বলো। এই যে মিশ্রণটা এইগুলো না এখন আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে আমাদের মধ্যে। এই কম্বিনেশন গুলো এখন চট করে মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় না। অনিকদা এমন একটা কথা বললে লোকে বুঝতেই পারছে না কি বলল। সেরকমও হয়েছে। তো এগুলো খুব বিরল। তার সঙ্গে সঙ্গে অনিকদার যে বিশ্বাসটা ছিল অনিকদার সেটা অটল ছিল চিরকাল এবং কখনও মানে যেটা বলে হতো বলবে সেটা বলে দিত। সেটাও খুব বিরল আজকের দিনে।”