
বলিউড সঙ্গীত জগতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, স্বজনপোষণ এবং প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ার বিরুদ্ধে ফের একবার সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রখ্যাত সুরকার অমল মালিক। এবার তাঁর নিশানায় যেমন বিনোদন জগতের অলিখিত কিছু ‘নিয়ম’, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পরিবারকে কটু কথা বলা একদল ট্রোলার।
এক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ ও চাঁছাছোলা বার্তায় অমল তাঁর ও সুপারস্টার সলমন খানের যৌথ হিট গান ‘ম্যায় হু হিরো তেরা’-র সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরেন। ক্ষুব্ধ সুরকার লেখেন, “সারা বিশ্বের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের দর্শকদের জন্য একটি সংবিধিবদ্ধ সতর্কবার্তা—আমার পরিবারকে নিয়ে একটি শব্দও বরদাস্ত করা হবে না। আমাকে নিশানা করা হয়তো আপনাদের গেমপ্ল্যানের অংশ, এতে আপনারা কিছু লাইক আর নজর কাড়তে পারেন—খুব ভালো, স্বাগত! কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দেখছি এক্স-এর কিছু মুখহীন অযোগ্য লোক আমার ভাইকে আক্রমণ করছে, কারণ সে আমার প্রাপ্য স্রেফ আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। ‘ম্যায় হু হিরো তেরা’ গানটির সুর আমার করা হওয়া সত্ত্বেও আমাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি।”
গানটি তৈরির নেপথ্য রসায়ন স্পষ্ট করে অমল লেখেন, “প্রথমত জেনে রাখুন, আরমান মালিক মূল সংস্করণটি গেয়েছিল বলেই এটি অভিনেতা-প্রযোজক সলমান খান এবং পরিচালক নিখিল আদবানীর কাছে পেশ করা সম্ভব হয়েছিল। আমি গানটির সুর করেছি, কুমার স্যার লিখেছেন, আরমান গেয়েছে—এভাবেই গানটি চূড়ান্ত হয় এবং তারপর সলমান স্যার এটি গান। ঠিক এভাবেই পুরো বিষয়টি ঘটেছিল। তথ্যের জন্য জানিয়ে রাখি, আমি এবং কুমার স্যার না থাকলে গাওয়ার মতো কোনো গানই তৈরি হতো না! আরমান না থাকলে সলমান স্যারকে শোনানোর মতো কিছু থাকত না। আবার সলমান স্যারের মুখ ও তাঁর কণ্ঠ না থাকলে গানটি আজকের এই জনপ্রিয়তার জায়গায় পৌঁছাত না—এ কথা আমি কখনোই অস্বীকার করিনি। কিন্তু একটি গান তৈরির পেছনে কতটা পরিশ্রম থাকে, তা কি কেউ ভেবে দেখে? অথচ প্রতি বছর উদযাপনের সময় আমাকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়।”
সাধারণ শ্রোতাদের কাছে এটি ছোট বিষয় মনে হলেও, শিল্পী সম্প্রদায়ের কাছে যে তা অত্যন্ত সংবেদনশীল, তা মনে করিয়ে দেন তিনি। আমালের সংযোজন, “আপনারা কি জানেন আমি এবং আমার পরিবার কিসের জন্য লড়াই করছি? আমরা সেই ইন্ডাস্ট্রির বাস্তুতন্ত্রের ভেতরে আমাদের সম্মান ও অধিকারের জন্য লড়াই করছি, যারা ক্রমাগত আমাদের এবং আমাদের কাজের যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে চলেছে। আপনারা আমাদের উপহাস করতে পারেন, কিন্তু আমাদের উত্তরাধিকারকে নয়। ৭৬ বছর আগে আমার দাদু এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। তারপর থেকে পরিবারের প্রতিটি সদস্য শিল্পকলার জন্য রক্ত জল করেছেন। বলিপাড়া নিজের অবস্থান তৈরি করার জন্য নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কঠিন জায়গা। কিন্তু বাবার স্বপ্ন এবং পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে আমি ও আমার ভাই নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। নোংরা রাজনীতি, ভাগ্য বা স্বজনপোষণের অজুহাতে বারবার কাদা ছোড়া—এসব দেখে আমি ক্লান্ত! ১৬ বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করে আজ ২০ বছর পর ইন্ডাস্ট্রির নোংরা রাজনীতি ও ঘৃণার বিরুদ্ধে আমার এই ক্ষোভ ফেটে পড়ছে।”
পরিবারের ওপর কোনও আক্রমণ হলে তা যে সহজে মেনে নেবেন না, সে কথা জানিয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে অমল বলেন, “আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে আমি সবাইকে জনসমক্ষে পর্দাফাঁস করব। এমনকী, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিরও কেউ যদি বিনা কারণে আমার বা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবে মনে রাখবেন—আমি ছাড়ব না! সংগীতে আমি হয়তো ‘এসআরকে’ (শাহরুখ খান), কিন্তু আমার রাগটা কিন্তু ‘সলমান খান’ আর ‘সঞ্জয় দত্ত’-র মতো! এসব হয়তো অন্যদের সঙ্গে চলে, কিন্তু দাব্বু মালিক এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে একদম নয়… আমাল মালিক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল, আছে এবং থাকবে। তাই যা করবেন ভেবেচিন্তে করবেন! আমি মাঠ ছেড়ে পালানোর পাত্র নই।”
পরিবারের অতীতের বিচ্ছেদ সংক্রান্ত জল্পনা উড়িয়ে সুরকার জানান, “পরিবারের ভেতরের কিছু ব্যক্তিগত বিষয় বাইরে আসায় আমাদের অনেক লোক হাসি সহ্য করতে হয়েছিল। কিন্তু তার পেছনের সত্য আপনারা জানেন না। ওটা ছিল স্রেফ এক ছেলের চিন্তাধারার সঙ্গে বাবা-মায়ের বিশ্বাসের মতপার্থক্য। সেইসব সমস্যার সমাধান এখন হয়ে গিয়েছে, আর আমি জানি সেটা দেখে অনেকেরই হয়তো গা জ্বলছে!”