Anupam Kher on NEET Protesters:’আন্দোলনকে অন্যদের হাতে তুলে দিও না’, ‘ককরোচ’দের বড় বার্তা অনুপম খেরের

NEET Protest Jantar Mantar: দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রতিবাদী মঞ্চে বিনোদন জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব পা বাড়ালেও, সম্পূর্ণ অন্য এক দৃষ্টিকোণ তুলে ধরলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

Anupam Kher on NEET Protesters:আন্দোলনকে অন্যদের হাতে তুলে দিও না, ককরোচদের বড় বার্তা অনুপম খেরের

|

Jul 23, 2026 | 7:52 PM

NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং স্বচ্ছতার দাবিতে রাজধানীর যন্তর মন্তরে নিজেদের প্রতিবাদ জোরদার করেছেন দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রতিবাদী মঞ্চে বিনোদন জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব পা বাড়ালেও, সম্পূর্ণ অন্য এক দৃষ্টিকোণ তুলে ধরলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় অনুপম খের স্পষ্ট জানান, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের কাছে উত্তর চাওয়া এবং নিজেদের প্রাপ্য অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলন সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে খাঁটি ও নিঃস্বার্থ কণ্ঠস্বর, কারণ এর পেছনে কোনও ব্যক্তিস্বার্থ থাকে না, থাকে দেশ ও ভবিষ্যতের স্বার্থ। এই জায়গা থেকেই তিনি বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়তে থাকা তরুণ প্রজন্মের প্রতি নিজের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।

তবে এই সমর্থনের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে তাঁর মূল উদ্বেগ। ককরোচ পার্টি তথা আন্দোলনকারীদের সতর্ক করে প্রবীণ এই অভিনেতা জানান, যেকোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলনে বাইরের রাজনৈতিক বা বিশেষ স্বার্থ প্রবেশ করলে আসল উদ্দেশ্যটিই ধুলোয় মিশে যায়। এমন অনেক মানুষ এই ধরনের মঞ্চকে ব্যবহার করতে পারেন, যাঁদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করা। তাই বাহ্যিক যেকোনও সমর্থনকে চোখ বুজে ‘সংহতি’ বলে মেনে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অনুপম খেরের পর্যবেক্ষণ, ভিড় বাড়লেই আন্দোলনের ধার বাড়ে না। অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের উপস্থিতিতে আলোচনার মূল সুরটাই বদলে যায়। তখন ক্যামেরার আলো, স্লোগান কিংবা খবরের শিরোনামে আর শিক্ষার্থীদের দুর্দশার কথা থাকে না, তা পরিণত হয় ব্যক্তিগত প্রচার বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের নতুন প্ল্যাটফর্মে। ফলে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাত থেকে ফসকে অন্য কারও কব্জায় চলে যায়। সেই কারণে প্রতিবাদের রাশ সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে রাখার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য, তরুণ সমাজই এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ। তাঁদের সততা, আদর্শ এবং প্রতিবাদের তেজই ভারতকে নতুন দিশা দেখাতে পারে। সেই শক্তিকে যেন কেউ নিজেদের স্বার্থে পাশা খেলার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব আন্দোলনকারীদেরই। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলার অধিকার যেমন আছে, তেমনই আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার গুরুদায়িত্বও কিন্তু ছাত্রদের কাঁধেই বর্তায়।

বার্তার শেষে শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে নিজেদের কথা বলার আহ্বান জানিয়ে অনুপম খের বলেন, যেকোনও সিদ্ধান্ত যেন তাঁদের নিজেদের বিবেক ও আত্মসম্মানের ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়, কোনও উসকানির বশে নয়।

 

 

Follow Us