
আমির খান প্রোডাকশনের আগামী ঐতিহাসিক ছবি ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ (Batwara 1947)-এর প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে অধ্যাপক আসগর ওয়াজাহাতের ১৯৮৯ সালের অত্যন্ত প্রশংসিত নাটক ‘জিস লাহোর নাই ভেখিয়া, ও জামিয়া ই নাই’ (Jis Lahore Nai Vekhya, O Jamya E Nai) অবলম্বনে। জানা যায়, সংবেদনশীল বিষয়বস্তুর কারণে নাটকটি একসময় পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দেশভাগের সেই যন্ত্রণাদায়ক সময়কে পর্দায় আরও একবার ফিরিয়ে আনছে এই ছবি। মূল গল্পটি আবর্তিত হয়েছে এক বয়োবৃদ্ধ হিন্দু মহিলাকে কেন্দ্র করে, যিনি দেশভাগের পর লাহোরে নিজের বাড়ি ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেছিলেন।
বিভাজনের করাল গ্রাসের মুখে দাঁড়িয়েও মানবিকতা, সহাবস্থান এবং লড়াইয়ের এক অসামান্য আখ্যানকে সেলুলয়েডের পর্দায় ফুটিয়ে তুলবে এই ছবি। নাটকটি প্রকাশের পর কয়েক দশক কেটে গেলেও এর চিরন্তন বার্তা ও বিষয়বস্তুকে এবার আরও বড় স্কেলে, এক মহাকাব্যিক সিনেমাটিক রূপ দিতে চলেছে ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’।
বছরের পর বছর ধরে ‘জিস লাহোর নাই ভেখিয়া, ও জামিয়া ই নাই’ নাটকটি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মঞ্চস্থ হয়েছে এবং সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এর সর্বজনীন মানবিক বার্তা থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তানে নাটকটির ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল বলে খবর।
রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় এবং আমির খান প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়কে একটি মানবিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরবে। পাশাপাশি, এই ছবির হাত ধরে বলিউড পেতে চলেছে এক বিরল কোলাবোরেশন—যেখানে একসঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সানি দেওল ও আমির খান।
ছবিটির তারকা খচিত কাস্টিংয়ে রয়েছেন শাবানা আজমি, প্রীতি জিন্টা, করণ দেওল, আলি ফজল, অভিমন্যু সিং, খুশি হাজারে এবং কনিকা কাপুর। এই পিরিয়ড ড্রামার সুরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান এবং গান লিখছেন জাভেদ আখতার।
কী ছিল সেই নাটকের গল্পে?
দেশভাগ-পরবর্তী লাহোরের প্রেক্ষাপটে লেখা এই নাটকের গল্প শুরু হয় একটি মুসলিম পরিবারকে কেন্দ্র করে, যারা লখনউ থেকে পরিযায়ী হয়ে লাহোরে আসে। সেখানে তাদের থাকার জন্য একটি হাভেলি বা প্রাসাদোপম বাড়ি বরাদ্দ করা হয়, যা দেশভাগের সময় এক হিন্দু পরিবার ফেলে চলে গিয়েছিল। কিন্তু গল্পে এক অপ্রত্যাশিত মোড় আসে যখন সেই পরিবারটি আবিষ্কার করে, বাড়ির ভেতরে এখনও এক বৃদ্ধা হিন্দু মহিলা বসবাস করছেন। তিনি কোনওভাবেই নিজের ঘর ছাড়তে রাজি নন এবং দাবি করেন যে এই হাভেলি তাঁর। সম্পত্তি নিয়ে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্বই পরবর্তীতে দেশভাগের ক্ষত, বাস্তুচ্যুতি, অস্তিত্বের সংকট এবং এক চরম মানবিক মেলবন্ধনের গল্প হয়ে ওঠে।
নাটকটি ঘিরে বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল এর শেষ দৃশ্যে। গল্পে দেখা যায়, সেই বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যুর পর স্থানীয় এক মৌলবি সাহেব ওই মুসলিম পরিবারটিকে পরামর্শ দেন, যেন তাঁরা সেই হিন্দু বৃদ্ধার শেষকৃত্য সনাতন ধর্ম তথা হিন্দু রীতিনীতি মেনেই সম্পন্ন করেন। এই অংশটি নিয়েই তৈরি হয়েছিল তীব্র আপত্তি ও বিতর্ক। আর তারপরেই পাকিস্তান জুড়ে নিষিদ্ধ হয় এই নাটকটি।