Uttam Kumar: ‘আমাকে শুধু বাঁচিয়ে রাখুন ডাক্তার’, আকুতি উত্তমের, মহানায়কের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে কী কী ঘটেছিল?

Uttam Kumar Death Anniversary: হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. সুনীল সেনের তত্ত্বাবধানে তড়িঘড়ি শুরু হয় চিকিৎসা। কিন্তু লড়াইটা যে ছিল অত্যন্ত কঠিন। বেলভিউয়ের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ড. সেনের হাত ধরে আকুল কণ্ঠে কেবল একটি কথাই বার বার বলে চলছিলেন উত্তম।

Uttam Kumar: আমাকে শুধু বাঁচিয়ে রাখুন ডাক্তার, আকুতি উত্তমের, মহানায়কের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে কী কী ঘটেছিল?

|

Jul 24, 2026 | 9:36 AM

সালটা ১৯৮০। ২৩ জুলাইয়ের কলকাতা দেখেছিল এক টানা অঝোর শ্রাবণ ধারা। কিন্তু শহরের অলিতে-গলিতে তখনও কেউ টের পায়নি, বৃষ্টিভেজা সেই রাতেই নিভে যেতে বসেছে বাংলা সিনেমার সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি। ‘ওগো বধূ সুন্দরী’র শুটিং সেটে কাজ চলাকালীনই আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হন মহানায়ক উত্তম কুমার। অদ্ভুত এক মানসিক জোর আর পেশাদারিত্বে ভর করে সেই অবস্থাতেই তিনি শট শেষ করেন, একবিন্দু বুঝতে দেননি নিজের ভেতরে চলতে থাকা চরম যন্ত্রণা। শুটিং ফ্লোর থেকে যখন তাঁকে দ্রুত বেলভিউ নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, গাড়িতে শুয়েই ক্রমাগত অস্পষ্ট স্বরে কিছু একটা বিড়বিড় করে চলছিলেন তিনি। কিন্তু ঝড়ের গতিতে ঘটে চলা সেই মুহূর্তে কেউ বুঝতে পারেননি কী বলতে চাইছিলেন মহানায়ক।

হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. সুনীল সেনের তত্ত্বাবধানে তড়িঘড়ি শুরু হয় চিকিৎসা। কিন্তু লড়াইটা যে ছিল অত্যন্ত কঠিন। বেলভিউয়ের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ড. সেনের হাত ধরে আকুল কণ্ঠে কেবল একটি কথাই বার বার বলে চলছিলেন উত্তম— “আমাকে বাঁচান ডাক্তার, অনেক কাজ বাকি!” কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বেঁচে থাকার সেই আকুতি নিয়ে চলে যান উত্তম।

এর বহু বছর পর এক বিনোদন পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. সুনীল সেন স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছিলেন, মহানায়ক বেশ কিছু দিন ধরেই তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খেলেও নিজের অনিয়মিত জীবনযাত্রায় কিছুটা বদল আনার পরামর্শ তাঁকে প্রায়ই দেওয়া হতো। প্রতিবারই হেসে উত্তম কুমার বলতেন, “আমাকে শুধু বাঁচিয়ে রাখুন।” ২৩ জুলাইয়ের সেই কালরাত। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রয়েছেন উত্তম। চারপাশে ডাক্তারদের ভিড়। ক্রমাগত নজর রাখা হচ্ছে তাঁর অক্সিজেন লেভেল, হৃদস্পন্দন। হাসপাতালের বাইরে তখন ভক্তদের ঢল। আর রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ভাই তরুণ কুমার। উত্তমের চোখ আধা বোজা। যেন শেষবারের মতো চারিদিক দেখে নিচ্ছেন। ডাক্তার সেন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তখন উত্তমের মুখে সেই হাসি যেন ম্লান হয়নি। উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল তাঁর মুখশ্রী। আর বিড় বিড় করে বলে যাচ্ছিলেন, বাঁচতে চাই ডাক্তার! জীবন-মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে ড. সেনের কাছে এই একই আকুতি ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি।

কিন্তু নিয়তির লিখন যে সেদিন ছিল ভিন্ন। চিকিৎসকদের আপ্রাণ লড়াই এবং কোটি কোটি অনুরাগীর প্রার্থনাকে ব্যর্থ করে দিয়ে টানা তিনবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। অবশেষে পরদিন, অর্থাৎ ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মহানায়ক। স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা বাংলা, কেঁপে ওঠে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত।

আজ মহানায়কের প্রস্থানের সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত। তবুও টলিউডের অন্দরে কিংবা অগণিত বাঙালির হৃদয়ে তাঁর স্থান একচুলও টলানো যায়নি। আজও যখন প্রেক্ষাগৃহে নতুন করে মুক্তি পায় ‘নায়ক’, প্রেক্ষাগৃহ থাকে হাউসফুল। সোশাল মিডিয়ার পাতায় নতুন প্রজন্মের হাত ধরে ভেসে ওঠে তাঁর চিরাচরিত ক্যারিশম্যাটিক রূপ। সময় বদলেছে, বদলেছে সিনেমার মাধ্যম, কিন্তু ‘মহানায়ক’ কেবল একজনই—উত্তম কুমার।

Follow Us