
দারিদ্র্য,কষ্ট আর চরম প্রতিকূলতাকে জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছনোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত ভারতী সিং। আজ যিনি কোটি কোটি মানুষকে হাসান, তাঁর নিজের শৈশব কিন্তু কেটেছে ঘোর অন্ধকারে। খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর মা একাই লড়াই শুরু করেন— অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিনি তিন সন্তানকে মানুষ করেন। পেটের তাগিদে একসময় আবর্জনার স্তূপ থেকে খাবার কুড়ানোর মতো নির্মম অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তবে অভাব তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’-এর মঞ্চ থেকে যে যাত্রার শুরু, কঠোর পরিশ্রমে ভর করে তা আজ তাঁকে দেশের শীর্ষস্থানীয় কৌতুক শিল্পী ও সঞ্চালকে পরিণত করেছে।
প্রতিভা আর দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে আজ তিনি কেবল জনপ্রিয়তাই অর্জন করেননি, গড়ে তুলেছেন এক বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যও। ২০২৪ সালের আনুমানিক হিসেবে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
টেলিভিশন ও সঞ্চালনা: বিভিন্ন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-তে উপস্থিতি ও সঞ্চালনার মাধ্যমে তিনি সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেওয়া তারকাদের অন্যতম।
ব্র্যান্ড প্রচার: বিভিন্ন প্রথম সারির ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী প্রচার থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: স্বামী হর্ষ লিম্বাচিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ইউটিউব চ্যানেল ‘ভারতী টিভি’ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের ডিজিটাল রাজস্ব আসে।
স্টেজ ও গ্লোবাল শো: দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কর্পোরেট ও লাইভ ইভেন্টে পারফর্ম করে তিনি নিয়মিত আয় করেন।
আজকের এই বিলাসবহুল জীবন—মুম্বইয়ের বিলাসবহুল আবাসন কিংবা মার্সিডিজ ও অডি কিউ৭-এর মতো মহার্ঘ গাড়ি—সবই তাঁর নিজের অর্জিত। ভারতী সিংয়ের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রমাণ করে, প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক না কেন, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাস থাকলে নিজের ভাগ্য নিজেই লেখা যায়।