
ঘরে ঢোকার কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই যুদ্ধক্ষেত্র ‘বিগ বস বাংলা’র ঘর! প্রথা ভেঙে একে অপরকে চিনে নেওয়ার বা ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেল ধুন্ধুমার কাণ্ড। আর এই প্রথম দিনের কোন্দলের কেন্দ্রবিন্দু— কে কোন বিছানায় ঘুমোবেন! সামান্য ‘বেড’ আর এসি-র ঠান্ডা নিয়ে শুরু হওয়া তর্কাতর্কিতে প্রথম দিনেই মুখোমুখি অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, ঝিলম, সৃজলা এবং মনামী।
ঘটনার সূত্রপাত বিগ বসের এক বিশেষ চিঠিকে কেন্দ্র করে। ঘরে ঢোকার পর অনিন্দ্য জানতে পারেন, প্রতিযোগীরা কেউ তাঁকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেননি। তবে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে বিগ বস তাঁকে সুযোগ দেন মূল বেডরুমের যেকোনও সিঙ্গল বা ডাবল বেড বেছে নেওয়ার।
কিন্তু এখানেই অনিন্দ্য এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিছানায় না শুয়ে সোফাতেই রাত কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং নিজের প্রাপ্ত বেডটি সৃজলাকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। অনিন্দ্যের যুক্তি— সৃজলার নাকি শীতে ভিষণ কষ্ট হয়, আর চিঠিটি অনিন্দ্যের হাতে সৃজলাই তুলে দিয়েছিলেন!
ঝিলম সোজাসুজি জানান, তাঁর একা শোয়ার অভ্যাস এবং ঘুমের মধ্যে হাত-পা ছোঁড়ার বাতিক আছে। তাই এই স্পেশাল বেডটি সৃজলার চেয়ে তাঁর পাওয়া বেশি দরকার ছিল। মনামী সোজা অনিন্দ্যকে চেপে ধরেন। তাঁর বক্তব্য— বিগ বসের ঘরের এসি-তে ঠান্ডা সবারই লাগছে! ঝিলম অন্তত নিজের সমস্যার কথা আগে বলেছিল, সৃজলা তো কিছুই বলেননি। তাহলে শীতে কষ্ট হওয়ার অজুহাতে কেন কেবল সৃজলাই বেড পাবেন?
বাদানুবাদ চরমে উঠলে সৃজলাও চুপ থাকেননি। যুক্তি দিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ঘরে ঢুকে সবাই তো আগেই নিজের মতো বেড দখল করে বসেছিলেন! তখন কি কেউ কারও জন্য অপেক্ষা করেছিলেন? তাহলে একটি নির্দিষ্ট বেড দেওয়া নিয়ে এত জলঘোলা কেন?
এর ওপর আবার যোগ হয়েছে ঘরের হাড়কাঁপানো এসি এবং পাতলা কম্বল সংক্রান্ত প্রতিযোগীদের ভূরি ভূরি অভিযোগ! প্রথম দিনেই বন্ধুত্বের বদলে যদি কাঁথা-বালিশ আর বেড দখল নিয়ে এমন গরম পরিবেশ তৈরি হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে এই ঘরের জল কোন দূর পর্যন্ত গড়ায়, এখন সেটাই দেখার!