
বলিউড ও ব্যক্তিগত জীবন— এই দুইয়ের রসায়ন সবসময়ই পেজ-থ্রির শিরোনামে। আর যখন প্রসঙ্গ আসে দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর কাপুরের, তখন অনুরাগী থেকে শুরু করে বলিপাড়ার কৌতুহল পৌঁছয় তুঙ্গে। একসময় বলিপাড়ার অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ ছিলেন দীপিকা ও রণবীর। ২০০৮ সালে ‘বচনা অ্যায় হাসিনো’ ছবির শুটিং চলাকালীন একে অপরের প্রেমে পড়েন তাঁরা। সেই গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দীপিকা নিজের ঘাড়ে এঁকেছিলেন রণবীরের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে তৈরি বিশেষ ‘RK’ ট্যাটু।
দীপিকা ও রণবীরের প্রেম কেবল ছবির পর্দাতেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল সমান চর্চিত। দীপিকা প্রকাশ্যে একাধিকবার স্বীকার করেছিলেন তাঁর সেই গভীর অনুভূতির কথা। তবে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি এই রঙিন অধ্যায়। শোনা যায়, রণবীরের প্রতারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণেই ভেঙে যায় এই হাই-প্রোফাইল সম্পর্ক। বিচ্ছেদের পর রণবীর ও দীপিকা দুজনেই নিজের নিজের জীবনে এগিয়ে যান— রণবীর বিয়ে করেন আলিয়া ভাটকে এবং দীপিকা বাঁধেন রণবীর সিংয়ের সঙ্গে ঘর।
কী হল সেই বহুল চর্চিত ট্যাটুর?
সম্পর্ক ভাঙলেও দীর্ঘদিন দীপিকার ঘাড়ে সেই ‘RK’ ট্যাটুটি দৃশ্যমান ছিল। অনেক অ্যাওয়ার্ড শো এবং ফটোশুটে এটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা কম হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে রণবীর সিংকে বিয়ের আগে এবং বিভিন্ন ফ্যাশন ইভেন্টে দেখা যায়, ট্যাটুটি ধীরে ধীরে আবছা হতে শুরু করেছে। জানা যায়, লেজার রিমুভাল (Laser Removal) পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয় সেই স্মৃতি।
ট্যাটু মোছাতে কত টাকা খরচ হয়েছিল?
বলিপাড়ার ভেতরের খবর অনুযায়ী, এই ধরনের স্থায়ী (Permanent) ট্যাটু লেজার দিয়ে পুরোপুরি তুলতে বেশ কয়েকটি সেশনের প্রয়োজন হয়। এক-একটি সেশনের খরচ পড়ে প্রায় ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। সম্পূর্ণ ট্যাটুটি ত্বক থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য করতে দীপিকাকে মোট ৩ থেকে ৫টি সেশন নিতে হয়েছিল। অর্থাৎ, ঘাড়ে খোদাই করা রণবীরের স্মৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে দীপিকাকে খরচ করতে হয়েছিল আনুমানিক ৩০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা ।
প্রেমের স্মৃতি যেমন একসময় দীপিকার জীবনে আবেগ তৈরি করেছিল, তেমনই আধুনিক চিকিৎসার সাহায্যে সেই অতীতকে পুরোপুরি মুছে ফেলে নতুন অধ্যায়ে নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছেন এই বলিউডের ‘মস্তানি’।