
মুম্বইয়ের অপরাধদমন শাখার জালে বলিউডের এক উঠতি অভিনেতা। মীরা রোডের কাশিমীরা এলাকা থেকে পরিচালিত এক আন্তঃরাজ্য মাদকচক্রের তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করেছে অভিনেতা ও মডেল রুহুল্লাহ মেহদীকে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘দেবা’ ছবিতে শাহিদ কাপুরের সহ-অভিনেতা হিসেবে নজর কেড়েছিলেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটির ওপর নজর রাখছিলেন তদন্তকারীরা, আর সেই সূত্র ধরেই এবার হাতকড়া পরল তাঁর হাতে।
কাশিমীরা থানার ক্রাইম ব্রাঞ্চ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ২৮ গ্রাম নিষিদ্ধ এমডি (মিথাইলিনডাইঅক্সিমিথামফেটামিন বা এমডিএমএ) মাদক উদ্ধার করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫.৬০ লক্ষ টাকা। এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, মেহদীই এই মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল কারবারি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, স্ন্যাপচ্যাট ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোকে মাধ্যম বানিয়ে গোপনে চলত এই মাদকের কারবার। তথ্য পাওয়ার পরেই ফাঁদ পাতে পুলিশ। এক আধিকারিককে ভুয়ো ক্রেতা বানিয়ে দহিসরের ঠাকুর মল সংলগ্ন এলাকায় কাসিফ নামের এক সরবরাহকারীকে ডাকা হয়। হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ধৃত কাসিফ পুলিশি জেরায় স্বীকার করে যে, এই মাদকের যোগানদাতা আর কেউ নন, স্বয়ং অভিনেতা মেহদী।
তথ্যের সত্যতা যাচাই করতেই মালাডের এক শুটিং স্টুডিয়োর বাইরে ওত পেতে থাকে পুলিশ। শুটিং চলাকালীনই সেখান থেকে আচমকা গ্রেফতার করা হয় মেহদীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, কাশ্মীরের বাসিন্দা মেহদী বর্তমানে গোরেগাঁওয়ের বাসিন্দা। ‘দেবা’ ছাড়াও একাধিক জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি।
গ্রেফতারির পর অভিযুক্তকে স্থানীয় আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। টলিউড বা বলিউডের আর কোনো পরিচিত মুখ এই চক্রে জড়িয়ে রয়েছে কি না, কিংবা মেহদী কাদের কাছে এই মাদক পৌঁছে দিতেন—তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে মুম্বই পুলিশ।