
বাংলা ছবির কোন নায়ককে বলা হয় ম্যাটেনি আইডল? সাধারণ জ্ঞানের (GK) প্রতিযোগিতায় আসতে পারে এমন প্রশ্ন। উত্তর সকলেরই জানা–মহানায়ক উত্তমকুমার। কত নায়ক তৈরি হয়েছে আগে-পড়ে, কিন্তু তাঁর মতো অভিনেতা পাওয়া যায়নি আর। তিনি আজও বাঙালিদের মনের মণিকোঠায় বিরাজ করেন। মহিলারা তাঁর জন্য আজও সমান উদ্বেল। কত নারী বিবাহ করেননি উত্তমের প্রেমে। কত নারী আজও মনে করেন, অমন হাসি হাসতে পারেননি কোনও পুরুষ। কত নারীর কাছে তিনি ‘স্বামী’। জনসমক্ষে আসতেন না উত্তম। রুপোলি পর্দায় ধরা দিয়েছিলেন জীবনের বেশির ভাগ সময়টাতেই। মনে করতেন এতে তাঁর মহিমা লোপ পাবে। কিন্তু জানেন কি উত্তমের আয় কত ছিল?
শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় কেরিয়ার শুরু করেছিলেন উত্তম। প্রথম ছবিটির নাম ছিল ‘দৃষ্টিদান’। সেই সময় তাঁর পারিশ্রমিক ছিল মাত্র সাড়ে ১৩ টাকা। প্রায় ৭০-৮০ বছর আগেকার কথা। সেই সময় সাড়ে ১৩ টাকার অনেকটাই মূল্য ছিল। সেই ছবির পর ‘কামনা’ ছবিতে অভিনয় করেন উত্তম। সেই প্রথম নায়ক হিসেবে কাস্ট করা হয় উত্তমকে। সাড়ে ১৩ টাকা থেকে সোজা দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিক বাড়ে উত্তমকুমারের। তারপর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে প্রথম মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটিতে রুপোলি পর্দায় দেখা যায় উত্তমকে।
তবে অভিনয় কেরিয়ারে স্ট্রাগল সময়টা দেখতে হয়েছিল উত্তমকেও। পরপর ৭টা ছবি ফ্লপ করেছিল তাঁর। সেটা ছিল কেরিয়ারের এক্কেবারে শুরুর দিকের কথা। ধীরে-ধীরে তিনিই হয়ে ওঠেন বাঙালির ম্যাটেনি আইডল। তিনিই এখনও পর্যন্ত টলিউডের সফলতম নায়ক। তাঁকে ছবিকে কাস্ট করার জন্য যে কোনও মূল্য দিতে রাজি ছিলেন প্রযোজকেরা। তিনি থাকলেই যে ছবি হিট!
কিন্তু জানেন কি, প্রত্যেক ছবি পিছু কত টাকা দাবী করতেন উত্তম। কম করে হলেও ২-৩ লাখ টাকা। তাঁকে সেই টাকাটাই দিতেন প্রযোজকেরা। কোনও ধরনের আলোচনাই হত না। এই সময় দাঁড়িয়ে সেই পারিশ্রমিক প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি।