
রূপচর্চা বা শরীর পরিষ্কার করার তালিকায় আমরা মুখ, হাত কিংবা পায়ের দিকে যতটা নজর দিই, পিঠের যত্ন কিন্তু প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। কারণটা খুবই সাধারণ— স্নানের সময় শরীরের পিছন দিকে হাত না পৌঁছনো। তবে পিঠের সঠিক যত্ন না নিলে সেখানে মৃত কোষ জমা, স্ক্যাল্প থেকে গড়িয়ে পড়া কন্ডিশনার জমে রোমকূপ বন্ধ হওয়া এবং এর ফলে পিঠে ব্রণ বা ‘ব্যাকনে’ (Backne)-র মতো সমস্যা তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, পিঠ পরিষ্কার রাখতে অতিরিক্ত কষ্ট করার প্রয়োজন নেই; সঠিক কিছু উপাদানের ব্যবহারে হাত না পৌঁছালেও পিঠ রাখা সম্ভব একদম পরিষ্কার ও সতেজ।
নিয়মিত স্নানের সময় পিঠ পরিষ্কার রাখার সহজ ৫টি কৌশল:
বাজারচলতি লম্বা হাতলযুক্ত কাঠের বডি ব্রাশ বা দুই প্রান্তে হাতল থাকা কাপড়ের ‘ব্যাক স্ক্রাবার’ ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ উপায়। এগুলো হাতল ধরে সহজেই পিঠের মাঝখানে পৌঁছানো যায় এবং আলতো হাতে ঘষলে ত্বকের মৃত কোষ উঠে যায়।
আজকাল সিলিকন উপাদানে তৈরি ডাবল-সাইডেড ব্যাক স্ক্রাইভার স্ট্র্যাপ অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি ধরে পিঠের ওপর-নিচে ঘষলে স্ক্যাল্প বা পিঠের অতিরিক্ত তেল কেটে যায় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
স্নানের সময় সরাসরি হাত দিয়ে ঘষা সম্ভব না হলে বডি ওয়াশ একটি বড় লুফায় নিয়ে প্রচুর ফেনা তৈরি করে পিঠের ওপর চাপ দিন। এরপর শাওয়ারের জলের প্রেসার বাড়িয়ে পিঠ ধুয়ে ফেলুন। জলের তোড়েই সিংহভাগ ধুলোবালি ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়।
সপ্তাহে অন্তত একদিন চালের গুঁড়ো, বেসন ও দইয়ের মিশ্রণ কিংবা ভালো মানের বডি স্ক্রাব লম্বা স্ক্রাবারে মাখিয়ে পিঠে ব্যবহার করুন। এটি পিঠের রোমকূপ উন্মুক্ত করে এবং ব্রণের প্রবণতা কমায়।
শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় চুল সামনের দিকে এনে ধোওয়া উচিত। পিঠের ওপর কন্ডিশনার লাগলে তা থেকে ব্যাকটেরিয়া ও চটচটে ভাব তৈরি হয়, যা জল দিয়ে খুব ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা জরুরি।
পিঠের যত্ন কেবল সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতারও অত্যন্ত জরুরি অঙ্গ। প্রতিদিন স্নানের সময় এই সামান্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই ত্বক থাকবে একদম মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।