
রাহুল দেব বর্মন মানেই একটা আলাদা আবেগ, একরাশ ম্যাজিক! বাংলা থেকে শুরু করে মুম্বইয়ের মাটি, আরডি বর্মনের (RD Burman) সুরের জাদুতে আজও বুঁদ হয়ে থাকে আট থেকে আশি। সেই কালজয়ী সুরকারের রঙিন, সৃষ্টিশীল অথচ আলোড়ন ফেলা জীবন এবার রুপোলি পর্দায় জীবন্ত হতে চলেছে। আর এই মেগা প্রজেক্ট ঘিরে বলিপাড়ায় যা কাণ্ডকারখানা চলছে, তাতে সিনেপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ এখন থেকেই তুঙ্গে। পরিচালক নীরজ পান্ডে এবং প্রযোজনা সংস্থা এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের হাত ধরে তৈরি হওয়া এই বায়োপিকে একের পর এক হেভিওয়েট তারকার নাম যুক্ত হচ্ছে। আর সেই তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা ইমরান হাশমি (Emraan Hashmi)।
নব্বইয়ের দশকের চকোলেট বয় বা থ্রিলার হিরোর চেনা ইমেজ ঝেড়ে ফেলে ইমরান এবার পর্দায় আসতে চলেছেন একেবারে অন্য অবতারে। সত্তরের দশকের কিংবদন্তি কৌতুকশিল্পী, বহুমুখী অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মেহমুদের (Mehmood) চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। খবরটা চাউর হতেই বি-টাউনে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কিন্তু এই বিশেষ কাস্টিং নিয়ে কেন এত চর্চা?
সে যুগে তরুণ আরডি বর্মনকে প্রথম স্বাধীন সুরকার হিসেবে কাজ করার বড় সুযোগটা দিয়েছিলেন এই মেহমুদই! ‘ছোট নবাব’ ছবিতে প্রথমবার সুর দেওয়ার অফার পান তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এক ইতিহাস। তাঁদের মধ্যে শুধু পেশাদার লেনদেন ছিল না, ছিল গভীর মেলামেশা, রাতভর আড্ডা আর এক দুর্দান্ত ক্রিয়েটিভ কেমিস্ট্রি। মেহমুদের অনন্য অভিনয় শৈলী আর কমিক টাইমিংয়ের কথা সবার জানা। তাই পর্দায় সেই বর্ণময় চরিত্র এবং আরডি বর্মনের সঙ্গে তাঁর সেই মিষ্টি বন্ধুত্বকে ফুটিয়ে তোলাটা ইমরানের কেরিয়ারে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
তবে চমকের এখানেই শেষ নয়! ছবিতে আরও এক ধামাকা হিসেবে দেখা যাবে বলিউডের খিলাড়ি অক্ষয় কুমারকে (Akshay Kumar)। সূত্রের খবর, এই বায়োপিকে একটি অত্যন্ত বিশেষ অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সত্তরের দশকের রুপোলি পর্দার একচ্ছত্র মেগাস্টার রাজেশ খান্নার (Rajesh Khanna) চরিত্রে দেখা যাবে অক্ষয়কে। রাজেশ খান্না ও আরডি বর্মনের সুরের রসায়ন কতখানি হিট ছিল, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
সব মিলিয়ে ছবির কাস্টিংয়ে যে একের পর এক চমক জমিয়ে রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট। বর্তমানে ছবিটি প্রাক-উৎপাদনের একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শুটিং শুরু হয়ে যাবে। আরডি বর্মনের বোহেমিয়ান জীবন, সেই যুগের অসামান্য সুরের ছন্দ আর রঙিন তারকাদের রসায়ন বড় পর্দায় ঠিক কতটা ম্যাজিকাল হয়ে ওঠে, এখন তা দেখার জন্যই অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন হিন্দি ছবির অনুরাগীরা।