
‘লক আপ সিজন ২’-এর মঞ্চে এবার তৈরি হল এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত। বৃহস্পতিবার অতিথি হিসেবে শো-এ যোগ দেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা গৌরব খান্না। সেখানে তিনি মুখোমুখি হন তাঁর স্ত্রী আকাঙ্খা চামোলার। দীর্ঘদিনের বৈবাহিক টানাপোড়েন এবং বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে ক্যামেরার সামনেই দুজনকে গভীর আলোচনায় মেতে উঠতে দেখা যায়। তবে শো-এর মধ্যে আকাঙ্খার আকস্মিক বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণায় যে তিনি একেবারেই খুশি নন, তা স্পষ্ট করে দেন ‘অনুপমা’ খ্যাত এই অভিনেতা। গৌরব সাফ জানান, তাদের আলাদা হওয়ার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। অভিনেতা বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কেবল আলোচনা করেছিলাম, কোনও পিটিশনে সই করা হয়নি, কোনও কিছুই এখনও অফিসিয়াল নয়।”
গৌরবের এই কথার জবাবে আকাঙ্খা যখন বলেন, “কারণ তুমি তখন ‘খতরো কে খিলাড়ি’-র জন্য চলে গিয়েছিলে”, তখনই তাঁকে থামিয়ে দিয়ে গৌরব বলেন, “শো-এ যাওয়ার ঠিক সাত দিন আগে তুমি আমার মাথায় এই বোমটা ফাটিয়েছিলে। সেখানে গিয়ে আমি স্টান্ট করব, নাকি মাথার ভেতরের এই অশান্তি সামলাব? যাই হোক, ঠিক আছে।”
পরবর্তীতে ফারহা খান যখন গৌরব ও আকাঙ্খাকে নিজেদের মধ্যে কথা বলার জন্য তাঁর কেবিনটি ছেড়ে দেন, তখন গৌরবকে বলতে শোনা যায়, “আমি শো-এ যাওয়ার আগে মে মাসে আমাদের এই আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু এখন সবাই ভাবছে আমাদের নাকি এক বছর আগেই ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। লোকে বলছে, আকাঙ্খা নাকি এই শো-এ এসে অডিশন দিচ্ছে আর আমি নাকি সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছি।”
শীঘ্রই ‘খতরো কে খিলাড়ি’-তে অংশ নিতে চলা এই অভিনেতা আকাঙ্খাকে মনে করিয়ে দেন যে, আইনত তাঁরা এখনও দম্পতি। গৌরব বলেন, “মানুষ পুরো বিষয়টিকে যেভাবে নিয়েছে, তা দেখে আমি সত্যিই অবাক। এটা যেন একটা খোলা মাঠ পেয়ে যাওয়ার মতো, যে যার ইচ্ছেমতো গল্প ফাঁদছে, যা মনে আসছে লিখছে। কিন্তু আমি তোমার বিরুদ্ধে একটা কথাও সহ্য করতে পারব না। কারণ আইনত আমরা এখনও স্বামী-স্ত্রী, আমি তোমার স্বামী। আমি যার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলাম বা আছি, তাঁকে নিয়ে কেউ আজেবাজে কথা বলবে—এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না।”
কী বলেছিলেন আকাঙ্খা চামোলা?
প্রসঙ্গত, ‘লক আপ’-এর একটি আগের পর্বে আকাঙ্খা দাবি করেছিলেন যে, তিনি এবং গৌরব গত এক বছর ধরে আলাদা থাকছেন এবং তাঁরা ডিভোর্সের পথে হাঁটছেন। পরবর্তীতে আরও একটি পর্বে সহ-প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা এবং সুফি মোতিওয়ালার সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের এই বিচ্ছেদের আসল কারণটি ফাঁস করেন আকাঙ্খা ।
সেখানে তিনি বলেন, “আমাদের বিয়ের পর আমার মধ্যে কখনওই মাতৃত্বের টান (maternal instinct) গড়ে ওঠেনি। তবে আমি বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করতে রাজি ছিলাম, দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিইনি। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি উপলব্ধি করি যে মা হওয়া আমার জন্য নয়, এবং গৌরবও প্রথমে তা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওর চিন্তাভাবনা বদলে গিয়েছে। এখন ও সন্তান চাইছে, কিন্তু আমি ওকে সন্তান দিতে পারব না।”