
২০২৫ সালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলিউডের ‘হিম্যান’ ধর্মেন্দ্র। রুপোলী পর্দায় তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছরে তাঁকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করার কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। গত ২৫ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বামীর সেই সম্মান গ্রহণ করলেন ধর্মেন্দ্রর দ্বিতীয়া স্ত্রী তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনী। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’।
পুরস্কার গ্রহণের সময় একদিকে যেমন গর্বে বুক ভরে উঠছিল হেমার, তেমনই জীবনসঙ্গীর অনুপস্থিতি চোখের কোণে এনে দিয়েছিল জল। তবে হেমার দাবি, শারীরিক উপস্থিতিতে না থাকলেও এ দিন প্রতি মুহূর্তে ধরমজি তাঁর সঙ্গেই ছিলেন।
সেই আবেগঘন মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে হেমা বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি মহাশয় যখন যোগ্য সম্মান প্রাপকদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছিলেন, আমি তখন দর্শকাসনে ধরমজির প্রতিনিধি হয়ে বসেছিলাম। গর্বে আমার মাথা উঁচু হয়ে যাচ্ছিল। সেই সঙ্গে ওঁর সঙ্গে কাটানো এক একটা মুহূর্ত চোখের সামনে ভেসে উঠছিল— আমাদের সেইসব ব্লকবাস্টার সিনেমা, যেখানে আমরা একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছি, যা পরে আমাদের জীবনসঙ্গী হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই সোনালী অতীতগুলোর কথা মনে পড়তেই চোখটা জলে ভিজে এসেছিল।”
হেমা আরও যোগ করেন, সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ওই দরবার হলে তিনি তাঁর স্বামীর অলৌকিক উপস্থিতি অনুভব করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মনে হচ্ছিল, ধরমজি যেন নিজেই আমার হাত ধরে মঞ্চের দিকে হেঁটে নিয়ে গেলেন, যেখানে ওঁর জীবনের এই শ্রেষ্ঠ সম্মান অপেক্ষা করছিল।’’ হেমা মালিনী জানান, তিনি কেবল ধর্মেন্দ্রর পরিবার নয়, বরং তাঁর কোটি কোটি অনুরাগীদের তরফ থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেছেন। এমন একজন অসাধারণ মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বাবার এই মরণোত্তর সম্মান প্রাপ্তিতে স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত ধর্মেন্দ্র ও হেমার দুই কন্যা ঈশা এবং অহনা দহিয়া। তবে ধর্মেন্দ্রর প্রথম পক্ষের দুই সন্তান, অর্থাৎ বলিউডের দুই তারকা অভিনেতা সানি দেওল ও ববি দেওলকে বাবার এই অত্যন্ত সম্মানজনক প্রাপ্তি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে বা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। তাঁদের এই নীরবতা নিয়ে ইতিমধ্যেই বলিপাড়ার অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে।