
জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়াটাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর জীবনের সমস্ত জটিলতা যেন এক লহমায় কেটে গিয়েছিল। গত বছরই বলিউড হারিয়েছে তার ‘হিম্যান’ ধর্মেন্দ্রকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর আড়ালে থাকা মানুষটিকে নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা ড্রিম গার্ল হেমা মালিনী। তিনি জানান, ধর্মেন্দ্র বাইরে থেকে যতটা শক্ত ও বলিষ্ঠ ছিলেন, ভেতর থেকে তাঁর মনটা ছিল ততটাই নরম।
‘জুম’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা। তবে ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় খুব সহজেই সবকিছু ঠিক হয়ে গিয়েছিল। আমি যা চেয়েছিলাম, তা কোনও রকম সমস্যা ছাড়াই খুব সুন্দরভাবে পূর্ণ হয়েছিল।” প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালের ২ মে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনী।
প্রয়াত স্বামীকে স্মরণ করে এই অভিনেত্রী আরও বলেন, “গোটা জীবন জুড়েই ও আমার একজন চমৎকার বন্ধু ছিল। আমি বলব, ও একাধারে একজন প্রেমময় স্বামী, একজন শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু, একজন বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক এবং একজন দার্শনিক ছিল। বিপদে পড়া যেকোনও মানুষকে সাহায্য করার জন্য ও সবসময় প্রস্তুত থাকত। এই ধরণের মানসিকতার মানুষ আজকাল খুব কমই দেখা যায়। ও দেখতে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল, অথচ ওর হৃদয়টা ছিল ভীষণ নরম।”
এর আগে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে দেওয়া অন্য একটি সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী জানিয়েছিলেন, “ও সবসময় বলত ‘আমি আমার পরিবারকে খুব ভালোবাসি।’ ও সবাইকে সবসময় একজোট হয়ে থাকার কথা বলত। ও ওর সমস্ত সন্তান, নাতি-নাতনিদের ভীষণ ভালোবাসত—তা সে ওই বাড়ির হোক বা আমার বাড়ির। ও নিজের জীবনটাকে প্রাণভরে উপভোগ করেছে।”
হেমা আরও যোগ করেন, “সাধারণ মানুষ যা পায় না, ও জীবনে সেই সমস্ত কিছু অর্জন করেছিল এবং শুরু থেকেই যা হতে চেয়েছিল, ঠিক তাই হয়ে দেখিয়েছিল। পঞ্জাবের একটা ছোট্ট গ্রাম থেকে আসা একটা সাধারণ ছেলে মুম্বইয়ে এসে এতটা সাফল্য পেয়েছিল। আজ পুরো দেশ ওকে ভালোবাসে, পৃথিবীর বহু মানুষ ওকে শ্রদ্ধা করে, আর সেই মানুষটি আমাকে ভালোবাসত! আপনারা বুঝতেই পারছেন এটা আমার জন্য কতটা গর্বের।”
উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বরে ৮৯ বছর বয়সে (৯০তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে) ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণ পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল। দশকের পর দশক ধরে রুপোলি পর্দায় দর্শকদের বিনোদন জুগিয়েছেন এই অভিনেতা। মৃত্যুর পরও তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছরে তাঁকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়, যা ধর্মেন্দ্রর হয়ে গ্রহণ করেছিলেন স্বয়ং হেমা মালিনী।