
দীর্ঘ রেডিও ও টেলিভিশন কেরিয়ারে দেশ-বিদেশের বহু নামজাদা সেলিব্রিটির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরজে তথা জনপ্রিয় সঞ্চালক মীর আফসার আলি। নিজের তীক্ষ্ণ, মজার এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নে বহু ডাকসাইটে তারকাকে ঘায়েল করেছেন তিনি। তবে এবার এক চ্যাট শো-তে এসে নিজের কাজের অভিজ্ঞতার এক অদ্ভুত ট্রমাটিক ও অস্বস্তিকর মুহূর্তের কথা ফাঁস করে ফেললেন মীর নিজেই। আর সঙ্গে টেনে আনলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ‘টাইট লিপ’ প্রসঙ্গ।
সম্প্রতি সঞ্চালক সায়নের জনপ্রিয় পডকাস্ট অকপট-এ অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে খোলামেলা আড্ডায় মেতেছিলেন মীর। সেখানেই কথায় কথায় উঠে আসে ক্যামেরার সামনে তারকাদের ‘ফেক’ বা ইনসিকিউর আচরণের প্রসঙ্গ। সায়ন মীরকে প্রশ্ন করেন, এত বছরের কেরিয়ারে ক্যামেরার সামনে কাকে তাঁর সবচেয়ে বেশি ইনসিকিউর বা ‘টাইট লিপ’ মনে হয়েছে, যাঁর থেকে কোনওভাবেই আসল প্রতিক্রিয়া বের করা যায়নি?
উত্তর দিতে গিয়ে অতীতে ফিরে যান মীর। স্মরণ করেন IPL-এর সময়ের এক ঘটনার কথা। মীর জানান, সেবার আইপিএল চলাকালীন কলকাতা নাইট রাইডার্স দল যখন কলকাতায় এসেছে, শহরের এক বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে আয়োজন করা হয়েছিল একটি ‘ফ্যান মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেশন। সেখানেই তৎকালীন কেকেআর অধিনায়ক তথা ভারতের তারকা ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীরের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
গম্ভীরের সেই সাক্ষাৎকারের স্মৃতি উসকে মীর রসিকতা করে বলেন, “গৌতম গম্ভীরের নামকরণের সার্থকতা সেদিন আমি হাড়াহাড়ে টের পেয়েছিলাম!” কেকেআর অধিনায়কের গাম্ভীর্য ও কম কথা বলার স্বভাবের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে মীর বলেন, “আমি যখন তাঁকে প্রশ্ন করছি, তখন আমার প্রশ্নগুলোই ওঁর উত্তরের চেয়ে বড় হয়ে যাচ্ছিল! আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আগামীকাল তো কেকেআর বনাম পাঞ্জাবের খেলা, আপনাদের প্ল্যান অফ অ্যাকশন কী হবে?’ কিন্তু উনি আমার দিকে একবার চোখ তুলে তাকানওনি। খুব সংক্ষেপে সোজা একটা উত্তর দিয়ে বললেন— ‘কাল মাঠেই দেখা যাবে।’ ব্যস, এইটুকুই! তারপর একদম চুপ।”
সাক্ষাৎকারটি বর্ণনা করার সময় কৌতুকের ছলে রাজ্য় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মীর। মজার সুরে তিনি বলেন,এত টাইট লিপ যে, কিছুদিন আগে ঋতব্রতও এতটা টাইট লিপ ছিল না, পার্টিতে কত জন আছে তা বলার জন্য। একদম মুখ বন্ধ করে কোনও কথা বলেনি। ফলে মীরের মতো তুখোড় সঞ্চালককেও থামতে হয়েছিল একবাক্যেই। বহু বছর পার হলেও গম্ভীরের ‘টাইট লিপ’ আচরণ যে তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে গিয়েছে, তা মীরের অকপট স্বীকারোক্তিতেই পরিষ্কার।