
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে আইনি বিপাকে বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। অবশেষে সোমবার বম্বে হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতা। ভবিষ্যতে আর কোনও ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেবেন না এই মর্মে আদালতের কাছে লিখিতও দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল চলাকালীন গত ১০ অক্টোবর আটক করা হয় ইমরানকে। এর পরেই তাঁর হাতে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ বা ভারত ছাড়ার নির্দেশ ধরায় ফরেনার্স রিজিয়নাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিনেতা। এ দিন শুনানির সময় আদালতের সামনে ইমরানের আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ধোন্দ জানান, বিক্ষোভের আয়োজকদের সঙ্গে তাঁর মক্কেলের সরাসরি কোনও যোগ ছিল না। এমনকি মিছিলে অংশ নেওয়ার প্রভাব কী হতে পারে, সে বিষয়েও তিনি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন না।
তবে শুনানির শুরুতেই বিচারপতিদের বেঞ্চ ইমরান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করে। আদালত মনে করিয়ে দেয়, ভারতে বেড়ে উঠলেও ইমরান আদতে একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি ভারতের ওসিআই (Overseas Citizen of India) কার্ডধারী। একজন ভারতীয় নাগরিক যে অধিকার পান, বিদেশি নাগরিক হিসেবে ওসিআই কার্ডধারী হয়ে তিনি সেই রাজনৈতিক অধিকার দাবি করতে পারেন না।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, “আপনি একজন ওসিআই কার্ডধারী। ভারতীয় নাগরিকদের মতো আচরণ করা আপনার সাজে না। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার আপনার নেই। এই ধরনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনুচিত ছিল। এ বিষয়ে আদালতকে আপনাকে লিখিত বন্ড বা মুচলেকা দিতে হবে।”
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং ইমরানের এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং একটি সাক্ষাৎকারের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এর আগেও বিভিন্ন প্রতিবাদে অংশ নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন অভিনেতা। তাই শুধু ক্ষমা চাইলেই তাঁর অপরাধ মুছে যায় না। আদালতও উল্লেখ করে যে, একজন জনপ্রিয় তারকা হিসেবে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার অনেক এবং তাঁর মন্তব্যের বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওসিআই কার্ডধারীরা সরকারের অনুকম্পায় এদেশে বসবাস করেন, তারা এখানে থেকে দেশের নীতির সমালোচনা বা রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন না। ইমরান খানের দেওয়া ক্ষমা প্রার্থনাকে কোনওভাবেই ছাড়পত্র হিসেবে ধরা হবে না। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
প্রসঙ্গত, বিদেশিদের আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে ইমরান খানকে অবিলম্বে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা। গত সপ্তাহেই আদালত সেই নির্দেশিকার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে। সেই মামলারই পরবর্তী শুনানিতে সোমবার আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণের মুখে পড়তে হল অভিনেতাকে।