বোরখা পরা মহিলা পছন্দ নয় ইমতিয়াজ আলির! কেন জানেন?

সিনেমার পর্দায় তাঁর নারী চরিত্ররা বরাবরই অসম্ভব স্বাধীনচেতা ও বাঁধনহারা। তবে এবার কোনও ছবির চিত্রনাট্য নয়, বরং বাস্তব জীবনে ‘বোরখা’ বা পর্দা প্রথা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন এই পরিচালক। ইমতিয়াজের সাফ কথা— বোরখা পরা নিয়ে যাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যের দোহাই দেন, তাঁরা আসলে এক অবদমিত মানসিকতার শিকার।

বোরখা পরা মহিলা পছন্দ নয় ইমতিয়াজ আলির! কেন জানেন?

|

Jun 20, 2026 | 6:05 PM

ইমতিয়াজ আলি— বলিপাড়ার একাংশ বলেন তিনি শুধু পরিচালক নন, সেলুলয়েডের এক দার্শনিক ও কবি। তাঁর ‘রকস্টার’-এর হীর হোক কিংবা ‘তামাশা’র তারা— সিনেমার পর্দায় তাঁর নারী চরিত্ররা বরাবরই অসম্ভব স্বাধীনচেতা ও বাঁধনহারা। তবে এবার কোনও ছবির চিত্রনাট্য নয়, বরং বাস্তব জীবনে ‘বোরখা’ বা পর্দা প্রথা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন এই পরিচালক। ইমতিয়াজের সাফ কথা— বোরখা পরা নিয়ে যাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যের দোহাই দেন, তাঁরা আসলে এক অবদমিত মানসিকতার শিকার।

সম্প্রতি দেশভাগের পটভূমিতে তৈরি ইমতিয়াজ আলির নতুন ছবি ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই চর্চা শুরু হয়েছে। নেটপাড়ার একাংশ ইতিমধ্যেই ছবিটিকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়ে পরিচালককে নিশানা করেছেন। তবে সেই ট্রোলিংকে পাত্তা না দিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় ইমতিয়াজ। এই আবহেই এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের পর্দানশীন প্রথা নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

নিজের ধর্ম নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়া এই মুসলিম পরিচালক বোরখা প্রসঙ্গে বলেন, “যখন কোনও নারী বলেন, ‘আমি আমার বোরখায় স্বচ্ছন্দ, আমি আমার পর্দায় স্বচ্ছন্দ’, তখন সেটা শুনতে আমার একেবারেই ভালো লাগে না। এটি মূলত একটি অধঃপতিত সমাজেরই নমুনা। যদি কোনও মহিলার সত্যিই তেমনটা মনে হয়, তবে আমি বলব তিনি আসলে এক চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার, যা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না।”

পরিচালকের এই মন্তব্যের পরই অনুষ্ঠানমঞ্চে বিতর্ক দানা বাঁধে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলা হয়, একেকটি সম্প্রদায়ের নিয়মকানুন ও সংস্কৃতি ভিন্ন হয়। তাই নিজের ইচ্ছেমতো পোশাক পরার স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।

জবাবে ইমতিয়াজ আলির যুক্তি, “আমি কাউকে জোর করে আটকানোর কথা বলছি না। আমি তো কারও বাড়ি গিয়ে বারণ করছি না। তবে সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে আমাদের সবার মধ্যে সহনশীলতা ও সংযম থাকা উচিত। আজকাল পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে সবাই চরমপন্থী হয়ে উঠছে। কোনও সুস্থ আলোচনা করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি কারও শত্রু নই, শুধু নিজের স্পষ্ট ভাবনাটা জানালাম।”

সিনেমার দুনিয়ায় যখন ইমতিয়াজ নারীদের মুক্তির ডানা খোঁজার গল্প বলছেন, তখন বাস্তব চিত্রটা অবশ্য অন্য কথা বলছে। সাম্প্রতিক অতীতে বিনোদন দুনিয়ার বেশ কয়েকজন চেনা মুখ ধর্মীয় অনুশাসনের কারণ দেখিয়ে রুপোলি পর্দা থেকে চিরতরে সরে দাঁড়িয়েছেন। ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানা খান অভিনয় ছেড়ে হিজাবকে আপন করে নিয়েছেন। এমনকী, অতীতে ছোট পোশাক পরাকে ‘অপরাধ’ বলেও গণ্য করেছেন তিনি। একই পথ বেছে নিয়ে বোরখার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলেছেন ‘দঙ্গল’ খ্যাত জায়রা ওয়াসমিও। গ্ল্যামার দুনিয়ার এই চেনা স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েই এবার প্রথাগত বোরখা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন ইমতিয়াজ আলি, যা নিয়ে এখন তোলপাড় সোশাল মিডিয়া।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us