
এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু এবং তার পর তদন্তের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা—এই সব কিছুর মাঝে ফের জোরালো হয়ে উঠেছে প্রমাণ সংরক্ষণের প্রশ্নটি। প্রয়াত অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যুর এক দশক পর, এবার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন জিয়ার মা রাবিয়া খান। প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশার মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআইয়ের এফআইআরে সূরজ পঞ্চোলীর নাম উঠে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানান রাবিয়া।
কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত না করলেও ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাবিয়া বলেন, “ছ’বছর আগে ঘটে যাওয়া দিশা সালিয়ানের মতো এক তরুণীর হত্যাকাণ্ডে যখন একই নাম বারবার ফিরে আসে, তখন তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে।”
রাবিয়ার ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তদন্তের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়া বা বদলে যাওয়ার ঘটনা। তাঁর মতে, ঘটনার শুরুতেই যদি সঠিক প্রমাণ হারিয়ে যায়, তবে সত্য উদঘাটনের পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে পড়ে। নিজের মেয়ে জিয়ার মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, প্রমাণ না থাকলে তদন্তকারীদের হাত-পা বাঁধা পড়ে যায়, ফলে সুবিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
হাইকোর্টে দিশার মামলার শুনানিতে যে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’র কথা উঠে এসেছিল, সেদিকে ইঙ্গিত করে রাবিয়া প্রশ্ন তোলেন—প্রমাণ ছাড়া কাউকেই অভিযুক্ত করা যায় না, কিন্তু বিচার ব্যবস্থার গাফিলতিতে যদি সেই প্রমাণই নষ্ট করে দেওয়া হয়, তবে তদন্তের মূল ভিত্তিটাই তো ধসে পড়ে!
২০১৩ সালের ৩ জুন মুম্বইয়ের বাসভবন থেকে উদ্ধার হয়েছিল ২৫ বছর বয়সি অভিনেত্রী জিয়া খানের দেহ। সেই সময় জিয়ার তৎকালীন প্রেমিক সূরজ পঞ্চোলীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠলেও, ২০২৩ সালে প্রমাণের অভাবে সিবিআই আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস করে। তবে জিয়ার মা আজও সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি; তাঁর দাবি, জিয়া আত্মহত্যা করেনি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।
দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর নতুন মোড়ে সূরজের নাম জড়াতেই পুরনো স্মৃতি ও অসন্তোষ ফের ভেসে উঠেছে রাবিয়ার কথায়। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত কোনও পরিবারই কি তবে বিচার পাবে না?—আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি এই কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে ফের আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন রাবিয়া খান।