
জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ছাঁদনাতলায় বসার সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন কাজল। তৎকালীন বলিপাড়ার চেনা সমীকরণগুলোকে একপাশে সরিয়ে রেখেই অজয় দেবগনের হাতে হাত ধরেছিলেন অভিনেত্রী। তবে তারকাখ্যাতির আলোয় মোড়া এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যে কতটা বাধা ও প্রতিকূলতা পেরোতে হয়েছিল, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতিই আবার উসকে দিলেন তিনি।
কাজল জানান, নব্বইয়ের দশকে যখন তিনি একের পর এক হিট ছবি উপহার দিচ্ছেন, ঠিক তখনই বিয়ের সিদ্ধান্তে চরম চমকে গিয়েছিলেন অনেকেই। শুভানুধ্যায়ীদের একাংশ তাঁকে এই পথ থেকে পিছু হটতে পরামর্শও দিয়েছিলেন। অভিনেত্রী হাসিমুখে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “অনেকেই আমাকে তখন আটকেছিলেন। এমনকী, আমার বাবা সোমু মুখোপাধ্যায়ও বিয়েতে রাজি ছিলেন না! তাঁর সোজা কথা ছিল, কেরিয়ারের এই সোনালি সময়ে ছাঁদনাতলায় বসা একেবারেই ভুল পদক্ষেপ।”
তবে বাবা আপত্তি তুললেও ছাতা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মা, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তনুজা। মেয়ের পছন্দের কথা জানার পর তিনি শুধু একটিই প্রশ্ন করেছিলেন—কাজল কি অজয়কে নিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত? উত্তর মেলার পর মা-মেয়ের এক দীর্ঘ ও গভীর আলোচনা হয়, যা কাজলের সিদ্ধান্তকে আরও মজবুত করে তুলেছিল।
অনেকেই ভাবেন, শীর্ষে থেকে সংসার পেতে কাজল হয়তো বলিপাড়ার পুরনো কোনও ছক ভেঙে নতুন ট্রেন্ড শুরু করেছিলেন। তবে কাজল নিজে এই কৃতিত্ব নিতে নারাজ। তাঁর মতে, “আমি আলাদা করে কোনও নতুন ইতিহাস তৈরি করিনি। আমার আগে শর্মিলা ঠাকুর বা সায়রা বানুর মতো কিংবদন্তি অভিনেত্রীরাও নিজেদের সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে বিয়ে করেছিলেন। আর বিয়ের পরও দারুণ সব কাজ উপহার দিয়েছেন। আসল বিষয়টা হল মনের আত্মবিশ্বাস আর সঠিক একজন জীবনসঙ্গী থাকা—তাহলে সংসার আর অভিনয় দুটোই সমান তালে সামলানো সম্ভব।”
১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কোনও জাঁকজমক বা সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি ছাড়াই, নিজেদের বাড়ির ছাদে খুব অল্প কয়েকজন স্বজনকে নিয়ে চার হাত এক হয়েছিল অজয়-কাজলের। আজ দুই সন্তান নিসা ও যুগকে নিয়ে তাঁদের সংসার কানায় কানায় পূর্ণ। অথচ এই রসায়নের শুরুটা কিন্তু মিষ্টি ছিল না! ১৯৯৫ সালে ‘হলচল’ ছবির সেটে চঞ্চল কাজলের সঙ্গে যখন চুপচাপ অজয়ের দেখা হয়, কাজল তো ভেবেই বসেছিলেন লোকটির মারাত্মক ‘অ্যাটিটিউড’! আগে এক সাক্ষাৎকারে মজা করে তিনি বলেছিলেন, “প্রথম দেখায় দেখেছিলাম লোকটা এক কোণে একা বসে শুধু চেইন স্মোক করে যাচ্ছে, কারও সঙ্গে কোনও কথা নেই… ভাবছিলাম এত গাম্ভীর্য নিয়ে কাজ করব কীভাবে!”
সেই গম্ভীর মানুষটিই যে শেষমেশ জীবনের সেরা সঙ্গী হয়ে উঠবেন, তা হয়তো প্রথম সাক্ষাতে খোদ কাজলও কল্পনা করতে পারেননি।