
বিনোদন জগত থেকে রাজনীতির ময়দান—কঙ্গনা রানাওয়াত এবং বিতর্ক যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ থেকে শুরু করে কৃতি শ্যাননের বিজ্ঞাপনী পোশাক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনা কিংবা বাবা রামদেবের সঙ্গে বাদানুবাদ—নানা কারণেই খবরে থেকেছেন তিনি। মাণ্ডি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর নানা রাজনৈতিক বয়ান শোরগোল ফেলেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। তবে এবার নিজের অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ—এই দুই ভিন্ন সত্তা এবং ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে সোচ্চার হলেন কঙ্গনা। বিতর্ক ভুলে স্পষ্ট ভাষায় ডার্ক হর্স মেজাজে জানিয়ে দিলেন, “আমি হাতের পুতুল নই।”
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রানাওয়াত সোজাসাপ্টা জানান, ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা ও দলের নীতিগত অবস্থানের মধ্যে মাঝে মাঝে ফারাক থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তাঁর মতে, ২০ বছরের সুদীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতাই তাঁর আসল পরিচয়, যা মাত্র দুই বছরের রাজনৈতিক কেরিয়ারের চেয়ে অনেক বেশি ভারী।
কঙ্গনা বলেন, “আমি ইচ্ছা করে দলের চিন্তাভাবনার বাইরে হাঁটতে চাই না। তবে কোনও সংবেদনশীল ইস্যুতে নিজের স্বাধীন ও স্পষ্ট মতামত দেওয়া আমার স্বভাব। বিজেপি আজ আমার পাশে আছে, কাল না-ও থাকতে পারে। কিন্তু ব্যক্তি কঙ্গনার নিজস্ব একটি ভ্যালু ও সত্তা রয়েছে, আমি কোনও আজ্ঞাবহ নির্দেশিত পুতুল হতে পারব না।”
সংসদে পা রাখলেও বলিউডের সঙ্গে তাঁর সুদৃঢ় বাঁধন যে ছিন্ন হয়নি, তা-ও মনে করিয়ে দেন এই তারকা। তাঁর কথায়, বহু প্রথম সারির পরিচালক আজও তাঁকে নিয়ে ছবি করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। তাঁরা প্রায়ই আফসোস করে জানতে চান, কেন তিনি অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে পূর্ণ সময় দিচ্ছেন!
তবে রুপোলি পর্দায় প্রত্যাবর্তন করলেও কোনও শর্তযুক্ত সমীকরণে যাবেন না তিনি। সাফ জানিয়েছেন, কোনও খান বা কুমারের ছায়া হয়ে তিনি কাজ করবেন না; বরং নিজের বয়সের সঙ্গে মানানসই অভিনেতাদের সঙ্গেই পর্দা ভাগ করবেন। আগামী এক দশকের পরিকল্পনা এখনই বাঁধাধরা করতে না চাইলেও, নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে সৃজনশীল স্বাধীনতার চর্চা তিনি বজায় রাখবেন।
অন্যদিকে, কৃতি শ্যাননের সাম্প্রতিক বিতর্কিত পোশাক সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা কৌশলগত নীরবতা পালন করেন। কিন্তু নেটদুনিয়ার নজর এড়ায়নি তাঁর নিজের অতীত। কঙ্গনার একটি পুরনো বিজ্ঞাপনী ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা উল্টে প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদ-অভিনেত্রীর ‘দ্বিমুখী’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই। রাজনীতির মঞ্চ হোক কিংবা রুপোলি পর্দা—কঙ্গনা রানাওয়াত যে তাঁর চেনা ছন্দেই নির্ভীক, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন এই নতুন বার্তায়।