
সন্তান লালন-পালন নিয়ে স্পষ্ট মতামত ও কড়া নিয়মের জন্য বলিপাড়ায় আলাদা পরিচিতি রয়েছে করিনা কাপুর খানের। স্বামী সাইফ আলি খান ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও খোলামেলা খেলাধুলোয় বিশ্বাসী হলেও, দুই ছেলে তৈমুর ও জেহের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে একেবারে আপসহীন ‘বেবো’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সন্তানদের মোবাইল আসক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র প্রভাব নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।
তৈমুর বা জেহের নিজস্ব কোনও ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহারের অনুমতি যে বাড়িতে নেই, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন করিনা। তিনি জানান, তৈমুরের দেখাশোনার দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তাঁর ফোনটিকেই নিজের বলে চালাতে চায় আট বছরের তৈমুর! এমনকী, বন্ধুদের কাছেও সেই ফোনকে নিজের বলে পরিচয় দেওয়া যাবে কিনা—মায়ের কাছে এই অনুমতি চাইতে এলে সরাসরি ‘না’ বলে দেন করীনা।
তবে সন্তানদের হাত থেকে গ্যাজেট দূরে রাখা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা মেনে নিয়ে করিনা বলেন, “আমি এই বিষয়ে একটু বেশিই কঠোর। তবে তৈমুরও পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলে—’তুমি আর আব্বাও তো সারাদিন ফোনে কথা বলো।’ তাই বাধ্য হয়ে ওদের হাত থেকে অনেক সময় ফোন কেড়ে নিতে হয়।”
প্রযুক্তি নিয়ে করীনার এই কড়াকড়ি আবার খুব একটা পছন্দ নয় সাইফ আলি খানের। এই এক বিষয় নিয়েই নাকি তারকা দম্পতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মতভেদের সৃষ্টি হয়। সইফ মনে করেন করিনা অযথা বেশি চিন্তা করছেন এবং তাঁর একটু শান্ত হওয়া উচিত। যদিও করিনার স্পষ্ট বক্তব্য—মা হিসেবে সন্তানদের শৈশবকে সুরক্ষিত রাখতে তাঁকে সতর্ক থাকতেই হবে। তিনি চান তৈমুর ও জেহ যত দিন সম্ভব এই প্রযুক্তি নির্ভরতার বাইরে থেকে নিজেদের শৈশবকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করুক।
কেবল মোবাইল আসক্তিই নয়, পাশাপাশি এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছেন করিনা। ৯ এবং ৫ বছর বয়সী দুই খুদে সন্তানের মানসিক বিকাশে প্রযুক্তি যাতে কোনও বিপজ্জনক মোড় না আনে, তার জন্য কড়া আইনি ও সামাজিক বিধিনিষেধের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও মাতৃত্বের জায়গা থেকে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ বলিউডের এই ‘সুপারমম’।