
২০০৩ সালের হাই-প্রোফাইল বিয়ে থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের আইনি বিচ্ছেদ—বলিউড অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুর এবং দিল্লির নামী ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরের সম্পর্ক বরাবরই থেকেছে প্রচারের আলোয়। তবে বিচ্ছেদের তিক্ততা পেরিয়েও এক সময়ের জীবনসঙ্গীর আকস্মিক চলে যাওয়া যে করিশ্মাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হল। গত বছর ১২ জুন ইংল্যান্ডে পোলো খেলার মাঠে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সঞ্জয়। দেখতে দেখতে কেটে গেল তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রাক্তন স্বামীর স্মৃতিতে সমাজমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা শেয়ার করলেন কাপুর-নন্দিনী।
বিশেষ এই দিনে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কোনও দীর্ঘ লেখা পোস্ট করেননি করিশ্মা। অতি সংক্ষিপ্ত এক লাইনে তিনি লিখেছেন, “১২/৬/২০২৫। সঞ্জয় আমাদের হৃদয়ে চিরকাল থাকবেন।” সামান্য কয়েকটি শব্দের এই বার্তার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন কয়েকটি আবেগপূর্ণ স্টিকার, যা বলে দিচ্ছিল তাঁর মনের ভেতরের নীরবতা ও শোকের কথা।
শুধু করিশ্মাই নন, সঞ্জয় কাপুরের প্রয়াণ দিবসে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁর বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সচদেব কাপুরও। স্বামীর স্মৃতিচারণ করে প্রিয়া সমাজমাধ্যমে লেখেন,
“তুমি আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর একটা বছর কেটে গেল। কিন্তু প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্তে আমরা তোমার উপস্থিতি টের পাই। তুমি কখনওই এক জায়গায় স্থির থাকার মানুষ ছিলে না। জীবনের প্রতি তোমার যে উদ্দীপনা, অদম্য কৌতূহল আর আত্মবিশ্বাস ছিল—তা আশেপাশের মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে শেখাত। আরও কঠোর পরিশ্রম করার এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাত।”
প্রিয়া আরও যোগ করেন যে, সঞ্জয় যে জীবনবোধে বিশ্বাস করতেন এবং নিঃস্বার্থভাবে যে ভালোবাসা বিলিয়ে গিয়েছেন, তার মাধ্যমেই তিনি আজীবন তাঁর প্রিয়জনদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। এই ভালোবাসাই এখন কাপুর পরিবারের শক্তি এবং তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতিই তাঁদের একমাত্র আশীর্বাদ।
বিগত বছরগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, করিশ্মা ও সঞ্জয়ের বৈবাহিক জীবন মোটেও সুখকর ছিল না। ২০০৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ধুমধাম করে শিখ রীতিতে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এমনকি শাশুড়ি রানি কাপুর ও স্বামী সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগও এনেছিলেন করিশ্মা। দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে ২০১৪ সালে তাঁরা বিচ্ছেদের আবেদন জানান এবং ২০১৬ সালে আইনিভাবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—কন্যা সামাইরা এবং পুত্র কিয়ান। অতীতের সমস্ত তিক্ততা, মান-অভিমান ভুলে গত বছর সঞ্জয়ের আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়েই দুই সন্তানকে নিয়ে দিল্লির শেষকৃত্যে ছুটে গিয়েছিলেন করিশ্মা। দিদির এই কঠিন সময়ে ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বোন করিনা কাপুর খান এবং ভগ্নিপতি সইফ আলি খান।
গত বছর (২০২৫) ১২ জুন ইংল্যান্ডে পোলো খেলার সময় এক অভূতপূর্ব ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন সঞ্জয় কাপুর। খেলা চলাকালীন আচমকাই একটি মৌমাছি তাঁর মুখে ঢুকে যায় এবং তিনি সেটি গিলে ফেলেন। এর পরপরই তিনি তীব্র হৃদ্রোগে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) আক্রান্ত হন এবং মাঠেই প্রাণ হারান।
সঞ্জয়ের মৃত্যুর এক বছর কেটে গেলেও পরিবারে শান্তি ফেরেনি। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিপুল সাম্রাজ্য ও সম্পত্তি নিয়ে কাপুর পরিবারে এখন তীব্র আইনি লড়াই চলছে। এই সম্পত্তির অধিকার নিয়ে একদিকে রয়েছেন তাঁর সন্তানেরা ও বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া, অন্যদিকে জড়িয়ে পড়েছেন শিল্পপতির মা রানি কাপুর-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। ফলে শোকের আবহের মধ্যেই এই বিপুল সম্পত্তি ভাগাভাগির আইনি জটিলতা এখন আদালতের দোরগোড়ায়।