
মা হওয়ার পর প্রথমবার স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গণেশ উৎসবে সামিল হতে দেখা গিয়েছিল বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মাঝেও সোশাল মিডিয়ায় কুৎসিত ট্রোলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। গর্ভাবস্থা পরবর্তী ওজন বৃদ্ধি এবং শারীরিক গঠনের পরিবর্তন নিয়ে অভিনেত্রীকে ঘিরে শুরু হয় জোর বডি শেমিং। যদিও বলিপাড়ার সহকর্মী এবং অগণিত ভক্ত এই কঠিন সময়ে ক্যাটরিনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তবুও এতদিন নীরব ছিলেন তিনি। অবশেষে সব জল্পনা ও কটাক্ষের অবসান ঘটিয়ে ট্রোলারদের কড়া জবাব দিলেন ক্যাটরিনা নিজেই।
সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নিজের রূপচর্চা ও সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। ক্যাটরিনা বলেন, “মডেলিং ও অভিনয়ের শুরুতে সৌন্দর্যের একটি নির্দিষ্ট ও গতানুগতিক ছক ছিল। কিন্তু এখন আমার কাছে সেরা রূপের অর্থ হলো ভেতর থেকে নিজেকে ভালো রাখা ও মানসিকভাবে সুস্থ অনুভব করা। আর সেই অনুভূতি তখনই আসে, যখন মানুষ নিজের সঠিক যত্ন নেয়।”
মা হওয়ার পরের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্যাটরিনা জানান, সন্তান জন্মদানের পর তাঁর ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েছিল। কোন প্রসাধন বা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট তাঁর ত্বকের উপযুক্ত, তা নির্বাচন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল। তবে এখন তিনি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখা, ত্বকের সুরক্ষাবলয় মজবুত করা এবং নিজেকে শান্ত রাখার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন।
নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপনের পরিবর্তন নিয়ে ক্যাটরিনা আরও যোগ করেন, “সঠিক ডায়েট, শরীরের ভেতরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান, আর সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম এক ঘণ্টা মোবাইল থেকে দূরে থেকে প্রাকৃতিক সূর্যালোক উপভোগ করা—এই অভ্যাসে আমার স্বাস্থ্য ও ত্বকে অভাবনীয় ইতিবাচক বদল এসেছে। মানুষ যখন ভেতর থেকে সুস্থ থাকে, সেই আত্মবিশ্বাস এমনিতেই চোখে-মুখে প্রতিফলিত হয়।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম সন্তান ‘বিহান’-এর জন্ম দেন ক্যাটরিনা কাইফ। মাতৃত্বের পর প্রথমবার জনসমক্ষে আসতেই একাংশের নেটিজেনরা তাঁর চেহারা নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য শুরু করেন। তবে সেইসব ট্রোলিংকে উড়িয়ে দিয়ে ক্যাটরিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন নারীর শরীরে রূপান্তর আসাটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। বডি শেমিং বা কটাক্ষ না করে এই সময়ে নারীদের ভালোবাসা ও মানসিক সাহায্য দেওয়াটাই সমাজের আসল কর্তব্য।