
টলিউড হোক বা বলিউড, তারকাদের কাছ থেকে দেখার উন্মাদনা মাঝেমধ্যেই যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো পুণের এক শপিং মলে। আগামী ১৯ জুন মুক্তি পেতে চলেছে হোমি আদজানিয়া পরিচালিত ত্রিকোণ প্রেমের ছবি ‘ককটেল ২’। ২০১২ সালের সুপারহিট ছবি ‘ককটেল’-এর সিক্যুয়েল এটি। আর এই ছবির প্রচারেই পুণের এক শপিং মলে হাজির হয়েছিলেন প্রধান তিন তারকা— শাহিদ কাপুর, কৃতি শ্যানন এবং রশ্মিকা মন্দানা। কিন্তু সেখানে সাধারণ অনুরাগীদের সাথে আলাপচারিতার যে ‘ফ্যান ইভেন্ট’ হওয়ার কথা ছিল, তা মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল রণক্ষেত্রে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিন তারকাকে দেখা মাত্রই শপিং মলে উপস্থিত বিপুল জনতা কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। চারিদিক থেকে উপচে পড়া ভিড় ধেয়ে আসতে থাকে অভিনেতাদের দিকে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা লোহার ব্যারিকেড ভেঙে বহু অনুরাগী তারকাদের একদম কাছাকাছি চলে আসার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, ভিড়ের চাপে পা ফেলার জায়গা পাচ্ছিলেন না শাহিদ, কৃতি বা রশ্মিকারা। নিরাপত্তারক্ষীরাও সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খান। বেগতিক দেখে মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হয় প্রচার অনুষ্ঠান।
এই চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে অভিনেতা শাহিদ কাপুরকে বেশ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ দেখায়। তবে অন্য একটি দৃশ্য কাড়ল সবার নজর। ঠেলাঠেলির মধ্যে ভিড়ে আটকে পড়েছিলেন ‘পুষ্পা’ খ্যাত অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা। সেই সময় কোনো দ্বিধা না করে রশ্মিকাকে শক্ত করে ধরে নিজের শরীরের আড়ালে আগলে নেন কৃতি শ্যানন। নিরাপত্তারক্ষীরা যখন তাঁদের মল থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, পুরোটা সময় কৃতি অত্যন্ত সতর্কভাবে রশ্মিকাকে জড়িয়ে ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। কৃতির এই ভূমিকা দেখে নেটিজেনদের মনে হয়েছে, যেন কোনো উৎসবের ভিড়ে ছোট বোনকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করছেন বড় দিদি।
দুই প্রথম সারির নায়িকার এই পারস্পরিক সমীকরণ দেখে মুগ্ধ নেটদুনিয়া। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে এক অনুরাগী লিখেছেন, “কৃতি ঠিক নিজের ছোটবোনের মতো রশ্মিকাকে আগলাচ্ছেন। দুজনের জন্যই অনেক ভালোবাসা।” অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “বলিউডে যেখানে নায়িকাদের রেষারেষি নিয়ে চর্চা হয়, সেখানে ওঁদের এই সম্পর্ক সত্যিই প্রশংসনীয়।”
তবে এই ঘটনার পর শপিং মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সাধারণ দর্শকের একাংশের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনুরাগীদের এই ধরণের অনিয়ন্ত্রিত আচরণকে ‘হতাশাজনক’ এবং তারকাদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন বহু নেটিজেন।